রাজশাহী অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। গত তিন দিন ধরে এ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। শনিবার হাড় কাঁপানো শীতে নাকাল হয়ে পড়েছে পদ্মাপাড়ের বরেন্দ্রের জনপদ। এতে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষেরা দুর্ভোগের কবলে পড়েছেন।
স্থানীয় আবহাওয়া অফিসসূত্র বলছে, রাজশাহীতে শনিবার এ বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আগের দিন শুক্রবার রাজশাহী অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৬ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বৃহস্পতিবার এ অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৭। বুধবার ছিল ৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন বলেন, শনিবার ভোর ৬টায় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ এবং সকাল ৯টায় ৮২ শতাংশ।
এদিকে, রাজশাহী মহানগরীসহ গোটা উত্তরাঞ্চলে হঠাত্ করে শীত জেঁকে বসায় দুর্ভোগ বেড়েছে ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষের। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে শীতে কাতর হয়ে পড়েছে তারা। ভোরে ও সন্ধ্যার পর এ শ্রেণির মানুষগুলোকে পথের ধারে খড়-কুটোয় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে। তবে বেসরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য।
অন্যদিকে, শীতের তীব্রতা বাড়ায় ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। নগরীর গণকপাড়া ফুটপাত এখন শীতবস্ত্রের দখলে। এছাড়া বাড়তি শীতের কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। এজন্য কৃষকদের স্থানীয়ভাবে নিকটস্থ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালি। জেলা প্রশাসক এস এম আব্দুল কাদের জানান, শীত মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি রয়েছে। ইতোমধ্যে ৯ উপজেলার জন্য ৩৭ হাজার ৮০০ কম্বল পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মহানগর এলাকার জন্য ১০ হাজার কম্বল দেওয়া হয়েছে।
