পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ভিমনলী গ্রামে ১৯৭১ সালে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ ১৫ মুক্তিযোদ্ধার আজও যথাযথ স্বীকৃতি মেলেনি। এমনকি শহীদের গণসমাধিস্থলে কোনও স্মৃতিস্তম্ভও গড়ে তোলা হয়নি। অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে ১৫ শহীদের গণসমাধিস্থল।
জানা গেছে, মঠবাড়িয়ার সাপলেজা ইউনিয়নের নলীভীম গ্রামটি হিন্দু অধ্যুষিত এক জনপদ। ওই গ্রামের নলী খালের পাড়ে ওয়াপদা বেড়িবাঁধ লাগোয়া ৮০টি হিন্দু পরিবারের বসবাস। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরের ওই গ্রামে যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল বিপর্যস্ত। মুক্তিযুদ্ধকালে আশ্রয়ের জন্য একটি নিভৃত জনপদ ছিল এ ভীমনলী গ্রাম। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের সেখানে যাতায়াত গড়ে ওঠে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিতাড়িত হিন্দু বাঙালিরাও সেখানে প্রাণ ভয়ে আশ্রয় নেয়। এ কারণে স্থানীয় স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারদের কাছে গ্রামটি টার্গেটে পরিণত হয়।
১৯৭১ সালে উপকূলীয় মঠবাড়িয়া অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বিশাল এক রাজাকার বাহিনী। তারা পরিকল্পিতভাবে ১৯৭১ সালের মে মাসে বাড়ই বাড়িতে আক্রমণ চালায়। মুক্তিযুদ্ধে সেদিন রাজাকারদের পাল্টা আক্রমণ করে তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করে। সেদিনের সেই সম্মুখযুদ্ধে রাজাকার লালু খাঁ মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে নিহত হন। আর রাজাকারদের গুলিতে শহীদ হন ১৫ জন মুক্তিকামী বীর বাঙালি। ওই যুদ্ধে সেদিন গুলিবিদ্ধ হয়েও পরে চিকিত্সায় বেঁচে গিয়েছিলেন সাপলেজা মডেল হাইস্কুলের শিক্ষক রমেশ চন্দ্র মিস্ত্রি (৫৮)। তবে তাঁর বড় ভাই গণেশ চন্দ্র মিস্ত্রি সেদিনের সেই যুদ্ধে শহীদ হন।
তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ আর আশ্রয়হীন বাঙালিকে আশ্রয় দেওয়াই ছিল আমাদের অপরাধ। আমাদের দুর্ভাগ্য — এই বীরত্বগাঁথা আর ১৫ বাঙালির এ জীবনদান আজও স্বীকৃতি পেল না। মুক্তিযুদ্ধকালীন সুন্দরবন অঞ্চলের আসাদ নগরের কমান্ডিং অফিসার মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুল হক মজনু বলেন, মুক্তিযুদ্ধে উপকূলীয় অঞ্চলে যে কয়টি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে তারমধ্যে নলী গ্রামের বাড়ই বাড়ির যুদ্ধ অন্যতম। এ বীরত্বের ইতিহাস এখনও যথাযথভাবে স্বীকৃতি পায়নি। সেখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের আমরা দাবি জানাচ্ছি।
