পঞ্চগড়ে খেতেই পচে যাচ্ছে সবজি

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২০, ২১:০৯

বিপাকে কৃষক

সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, পঞ্চগড় প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ে খেতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সবধরনের সবজি। করোনার কারণে বাইরে থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা না আসায় উত্পাদিত সবজি বাজারজাত করা যাচ্ছে না। বাজারে সবজি বিক্রি করে রিকশাভ্যানের ভাড়াও উঠাতে পারছেন না কৃষক।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড় জেলায় প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার সবজির চাষ হয়েছে। প্রতি মৌসুমে এখানে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন সবজি উত্পাদন হয়। এই জেলা থেকে প্রতিদিন টম্যাটো, বেগুন, করলা, শিম, লাউ, কুমড়া, শসা, পটোলসহ নানা সবজি স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হতো। প্রতিবছর সবজি উত্পাদন মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই দেশের বিভিন্ন এলাকার কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সবজি ক্রয় করে নিয়ে যেত। কিন্তু করোনার প্রভাবে পরিবহন সংকটে এবং বাইরে থেকে কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা আসতে না পারায় কৃষকরা সবজি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

বর্তমানে দেড় টাকা থেকে সবোর্চ্চ পাঁচ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বেগুন, শসা। টম্যাটো দুই টাকা কেজি এবং প্রতিটি লাউ দুই টাকা পিস দরে বিক্রি করছেন কৃষক। তাও ক্রেতা না পাওয়ায় অনেকের খেতেই নষ্ট হচ্ছে সবজি। কৃষকদের কেউ কেউ উত্পাদিত সবজি গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন। জেলার সদর উপজলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের জিনাতপাড়া এলাকার কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, কৃষকের কোনো মূল্য নাই, বাজারেরও কোনো নিয়ন্ত্রণ নাই। উত্পাদিত সবজি বিক্রি করে শ্রমিকের মজুরি তো দূরের কথা, উত্পাদিত সবজি বাজারে নিতে রিকশাভ্যানের ভাড়াও উঠছে না। জেলার বোদা উপজেলার ঝলইশালশিরী ইউনিয়নের সুরিয়াপাড়া গ্রামের বেগুন চাষি ভুপেন্দ্রনাথ রায় জানান, তিন একর জমিতে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করে বেগুন চাষ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। গত বছর একই জমিতে ১৩ লাখ টাকার বেগুন বিক্রি করেছি। এবার এক টাকারও বেগুন বিক্রি করতে পারিনি। জেলার কাঁচামাল ব্যবসায়ী হাসেম আলী জানান, প্রত্যেক বছর এই অঞ্চলের উত্পাদন হওয়া ফসল রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হতো। এই বছর দেশে ভাইরাসের কারণে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় এবং কাঁচা বাজারগুলোতে ক্রেতা তেমন না থাকার কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ক্রেতা না থাকলে তো পণ্যের দাম কমবেই।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু হানিফ জানান, উত্পাদিত সবজি বিক্রি করতে না পেরে যেসব কৃষক কষ্টে আছেন। তাদের সবজি ক্রয় করে ত্রাণ কাজে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দরিদ্র মানুষদের জন্য বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কৃষকদের জন্য আলাদা করে কোনো সহযোগিতার ঘোষণা এখনো আসেনি।