করোনা সংকট মোকাবিলা

আরো ৪১ লাখ কোটি টাকার অনুমোদন মার্কিন কংগ্রেসে

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২০, ২২:২৪

করোনা মহামারির কারণে সংকটে পড়া ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের জন্য এবং জাতীয় পর্যায়ে করোনা পরীক্ষার গতি বাড়াতে মোট ৪৮ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের (৪১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা) নতুন তহবিল অনুমোদন করেছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ (কংগ্রেস)। এই বিলটি নিয়ে কয়েকদিন ধরে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট নেতাদের মধ্যে আলোচনার পর সিনেটে বিলটি সর্বসম্মতিতে পাস হয়। বৃহস্পতিবার ৩৮৮-৫ ভোটে বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে পাশ হয়েছে। নতুন তহবিল থেকে ৩২ হাজার কোটি ডলার (২৭ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা) ঋণ হিসেবে দেওয়া হবে ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে। যাতে অর্থনীতি আবারও চালু হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মীদের বেতন অব্যাহত রাখতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যে ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ বেকার-ভাতার জন্য আবেদন জানিয়েছে। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বেকারত্বের হার।

এর আগে গত মার্চে আর্থিক সংকট এড়াতে ট্রাম্প প্রশাসন ২ লাখ কোটি ডলারের একটি প্যাকেজ অনুমোদন করে। ঐ তহবিল থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ৩৫ হাজার কোটি ডলার (২৯ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা) বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু এই অর্থ চাহিদার তুলনায় অনেক কম ছিল। যে কারণে নতুন করে আবারও তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোকে ৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার (৬ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা) দেওয়া হবে। এছাড়া রাজ্যগুলোকেও এই তহবিল থেকে বরাদ্দ দেওয়া হবে। বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নতুন তহবিল অনুমোদনের ফলে কভিড-১৯ মোকাবিলায় দেশটির তহবিলের আকার ৩ লাখ কোটি ডলারে দাঁড়বে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরো ১০০ কোটি ডলারের তহিবল গড়তে অগ্রহী হলেও রিপাবলিকানরা এ বিষয়ে সম্মতি দেননি বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কভিড-১৯ মোকাবিলায়   এই উদ্ধার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতির আকার রেকর্ড ছাড়াবে।

বিশাল উদ্ধার পরিকল্পনায় সম্মত ইইউ নেতৃবৃন্দ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতৃবৃন্দ দেশগুলোর জন্য বিশাল আকারের উদ্ধার পরিকল্পনায় সম্মতি দিয়েছেন। এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে ইইউ নেতৃবৃন্দ আগামী সাত বছরের বাজেটে সহায়তার পরিকল্পনায় একমত হয়েছেন। আগামী ১ জুন থেকে ৫৪ হাজার কোটি ইউরো (৫০ লাখ কোটি টাকার সমপরিমাণ) ছাড়ে সম্মতি দিয়েছে। বিবিসির সংবাদ অনুযায়ী ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুল ভন বলেছেন, ১ লাখ কোটি ইউরোর তহবিল বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এই তহবিল কীভাবে ব্যবহার হবে সেই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ঐ বৈঠকে বড়ো অগ্রগতি বলে উল্লেখ করে ইতালির প্রধানমন্ত্রী গুসেপ্পি কন্টি বলেছেন, এটি ইউরোপের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। তবে জার্মানির চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মার্কেল বলেছেন, এই ভাইরাসটির প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। ইইউ বাজেটে জার্মানির বড়ো অংশগ্রহণ থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।