করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে রাজধানী লাগোয়া জেলা নারায়ণগঞ্জে। এ পর্যন্ত কেবল ১৬ রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পেরেছেন। নারায়ণগঞ্জের সার্বিক অবস্থা নিয়ে কথা হয় খানপুরে ৩০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা সরকার সঞ্জয়ের সঙ্গে। হাসপাতালটিকে করোনার চিকিত্সার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। ডা. সঞ্জয় বলেন, ‘রাজধানী ঢাকার পরই নারায়ণগঞ্জে সবচেয়ে বেশি করোনার প্রভাব। ফলে সরকার এ জেলাকে গুরুত্ব দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ করোনা হাসপাতাল তৈরির নির্দেশ দিয়েছে।’
করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই নারায়ণগঞ্জে করোনা চিকিত্সায় একটি হাসপাতাল এবং রোগটি পরীক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবি তোলে স্থানীয় সুশীল সমাজ। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের এক ভিডিও বার্তায় ডা. সঞ্জয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জোরাল দাবি জানান। এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে সঙ্গে সঙ্গেই স্বাস্থ্য সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে ডা. সঞ্জয় বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের দুটি সরকারি হাসপাতালের মধ্যে খানপুরকেই পুরোপুরি করোনার চিকিত্সার জন্য রেডি করা হচ্ছে। বেশ কয়েকদিন ধরে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে পিডব্লিউডি হাসপাতালে আইসিইউ, ভেন্টিলেটর স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ করছে। সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহের মধ্যে সব কাজ শেষ হবে। এর পরই হাসপাতালটিতে পুরোদমে করোনার চিকিত্সা হবে।
তবে চিকিত্সাসেবায় নিয়োজিত নার্সদের এখনো থাকার ব্যবস্থা হয়নি। দায়িত্ব শেষে হাসপাতালের ফ্লোরেই তারা থাকছেন এখন।’ তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে এখানে করোনার চিকিত্সাও চলছে। উপসর্গ নিয়ে আসা ২২ জন চিকিত্সা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরেছেন। এখনো ১৯ জন করোনা পজিটিভ রোগী চিকিত্সাধীন। এর মধ্যে ১৪ জন পুরুষ এবং তিন জন নারী। অন্যদিকে অন্যান্য রোগের জন্য ভিক্টোরিয়া জেনালের হাসপাতাল রয়েছে। সেখানে তারা তাদের চিকিত্সা করাতে পারছেন।’ যার আইসিইউ দরকার তাকে এখন নারায়ণগঞ্জে না রেখে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। এখন এখানে প্রতিদিন গড়ে ৫০ জন রোগী আসছে।’
