যমুনার দুর্গম চারাঞ্চলের কৃষকদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২০, ১৩:২৫

যমুনার দুর্গম চরে একটি হত্যাকাণ্ডের জেরে নিরীহ কৃষকদের অধৃশতাধিক বাড়িতে হামলা চালিয়ে কয়েকশ গরু, ছাগল, ও ধান মরিচসহ ব্যাপক লুটতারাজের ঘটনা ঘটছে। বাড়িঘর ভেঙ্গে লুট করেছে মূল্যবান সম্পদ। এই হামলায় প্রাণ নিয়ে পালিয়ে গ্রাম ছাড়া প্রায় শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে পাশ্ববর্তী মাদারগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে।

ঘটনাটি ঘটেছে, যমুনার দুর্গম চরাঞ্চল শনপচায়। এই চরটি মাদারগঞ্জ সীমানায় বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার কুর্ণিবাড়ি ইউনিয়নের শনপচা (ডাকাতমারা চরের) হিসাবে পরিচিত। এই চরে বসাবাসরত মানুষ অধিকাংশ মাদারগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তারা নদীভাঙ্গনের শিকার হয়ে এই চরে কয়েক যুগ আগে থেকে বসবাস করে আসেছে।

হামলার শিকার শনপচা গ্রামের কৃষক ও ড্রেজার ব্যবসায়ী আহসান আলী, ঐ ওর্য়াডের আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুল মন্ডল, ও আঃ সাত্তার ব্যাপারী জানান, একটি সালিশি বৈঠক নিয়ে ঘটনায় একটি সংঘর্ষ হয়। ঐ সংঘর্ষে একজন নিহত হয়। এর জের ধরে শনাপাচা চরের আশরাফুল, এনামূল এবং ও পাশ্ববর্তী নান্দিাচরের লাঠিযাল খোকা ফকিরের নেতৃত্বে কয়েকশ লোক দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে ঐ ইউনয়নের চেয়ারম্যান আজহার মন্ডলের লোকজনকে অকারণে দায়ী করে অর্তকিতে হামলা চালায় এবং লোকজন প্রাণের ভয়ে পালিয়ে গেলে হামলাকারীরা তাদের প্রায় শতাধিক বাড়িতে থেকে গরু বাছুর, ছাগল, ধান চাল, মরিচ, লুট করে নিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার সকালে ঐ চরে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকদের বাড়িঘর শূণ্য অবস্থায়পড়ে আছে, প্রতিটি বাড়িতে হামালার চিহ্ন দেখা যায়। ঘরের সমস্ত আসবাব পত্রসহ ঘর গৃহস্থলির সব কিছু লুট করে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ে। অনেক নিরিহ লোকজন প্রাণভয়ে মাদারগঞ্জে চরাঞ্চলে আশ্রয়  নিয়েছে।

এ ব্যাপারে নান্দিনা চরের অভিযুক্ত খোকা ফকিরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায় নি। এ ব্যাপারে বগুড়ার সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল আামীন জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৩০টি গরু উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের জিম্মায় দেয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/আরকেজি