বগুড়ায় উপসর্গহীন আক্রান্তরা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২০, ২১:১৮

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

বগুড়ায় গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যে ১৪ জন করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন তাদের মধ্যে পাঁচ জনের শরীরে ন্যূনতম কোনো উপসর্গ নেই। তাছাড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলার বি-ব্লক এলাকায় এমন এক গৃহবধূ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন যিনি স্বজনদের ছাড়া অন্য কারো সংস্পর্শে যাননি। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো তার স্বামী একজন মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ। প্রতিদিন বাইরে গেলেও তার নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছে।

সর্দি, জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো কোনো উপসর্গ ছাড়াই জেলার নন্দীগ্রাম, শাজাহানপুর, দুপচাঁচিয়া ও সোনাতলা উপজেলা এবং বগুড়া শহরের বাসিন্দা পাঁচ জনের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাটি স্থানীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মকর্তাদের রীতিমত চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। তাদের মতে কোনো লক্ষণ ছাড়াই করোনা ভাইরাসে সংক্রমণের ঘটনাটি এই বার্তাই দিচ্ছে যে, বগুড়ায় প্রাণঘাতী ঐ ভাইরাসটির কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে গেছে। ফলে জেলাবাসী যদি এখনই সতর্ক না হন, তাহলে আগামীতে আক্রান্তের হার বাড়তেই থাকবে।

স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২২ এপ্রিলের আগ পর্যন্ত যে পাঁচ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের প্রত্যেকের মধ্যে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ ছিল। যে কারণে পজিটিভ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর পরই তাদেরকে করোনা আইসোলেশন ইউনিট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর গত ২২ এপ্রিল নতুন করে আক্রান্ত সাত জনের মধ্যে উপসর্গবিহীন পাঁচ জনকে হাসপাতালে না নিয়ে বাড়িতে আলাদা রেখেই চিকিত্সা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নন্দীগ্রামে ১২ বছর বয়সি যে কন্যা শিশুর করোনা পজিটিভ এসেছে তার সম্পর্কে বলতে গিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন মন্ডল জানান, ঐ শিশু এবং তার বাবা-মা ঢাকায় থাকতেন। কিছুদিন আগে বাড়ি ফিরলে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। এরপর সতর্কতার জন্য গত ১৯ এপ্রিল তাদের তিন জনেরই নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত বুধবার রাতে জানানো হয় ঐ তিন জনের মধ্যে শুধু ১২ বছরের মেয়েটি করোনা পজিটিভ।

শাজাহানপুর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোতারব হোসেন জানান, উপজেলার বি-ব্লক এলাকার পেশায় মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ এক ব্যক্তি কিছুদিন আগে গায়ে হাল্কা জ্বর অনুভব করেন। এরপর তিনি এবং তার স্ত্রী দুই জন গত ২১ এপ্রিল বগুড়ায় মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে গিয়ে নমুনা দিয়ে আসেন। গত বুধবার রাতে ফলাফলে জানা গেল ঐ রিপ্রেজেন্টেটিভ নেগেটিভ হলেও তার স্ত্রী করোনা পজিটিভ। ডা. মোতারব হোসেন বলেন, ‘আমরা হিস্ট্রি নিয়ে দেখেছি ঐ গৃহবধূ তার স্বজনদের ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে মেশেননি। আর তিনি স্বামীর সঙ্গেই থেকেছেন।’

দুপচাঁচিয়ায় ৬০ বছর বয়সি যে ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছে তিনি পাশের উপজেলা আদমদীঘিতে ইতিপূর্বে করোনায় আক্রান্ত এক ব্যক্তির আত্মীয়। দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কুদ্দুস মন্ডল জানান, ঐ ব্যক্তির কোনো উপসর্গ নেই। তিনি সুস্থ। শুধুমাত্র ইতিপূর্বে করোনা পজিটিভ এক ব্যক্তির আত্মীয় হওয়ার কারণে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল।

বগুড়া শহরের সবুজবাগ এলাকার ৪০ বছর বয়সি যে ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তার তেমন কোনো উপসর্গ ছিল না বলে জানিয়েছেন বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সামির হোসেন মিশু।

ধুনটের ২২ বছর বয়সি যে যুবক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তিনি গাজীপুরে একটি কারখানায় কর্মরত ছিলেন। কয়েক দিন আগে ধুনটে নিজ বাড়িতে ফেরার পর তাকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। দুই দিন আগে চোখ লাল হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েছিলেন। তখন তার নমুনা সংগ্রহ করা হলে ২২ এপ্রিল জানানো হয় তিনি করোনা পজিটিভ।

বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানিয়েছেন, সার্বিক পরিস্থিতি দেখে এটা বলাই যায় যে, বগুড়ায় কমিউনিটি পর্যায়ে করোনার ট্রান্সমিশন ঘটে গেছে। এজন্য আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন থাকতে হবে।