কুষ্টিয়ায় মাঠে মাঠে ধান
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠে পেকে ওঠা এ ধান এখন কৃষকের ঘরে ওঠার অপেক্ষায়। আর এক সপ্তাহ পরই কুষ্টিয়ায় শুরু হবে ধান কাটা মৌসুম।
অনুসন্ধান ও কৃষি বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে কুষ্টিয়া জেলায় ৩৩ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এতে ধানের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৯৯ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন। উচ্চ ফলনশীল বিভিন্ন জাত ও হাইব্রিড জাত ধান চাষ হয়েছে। হাইব্রিড জাতের মধ্যে সোনার বাংলা-১, গোল্ড ও জাগরণ ধানে প্রতি হেক্টরে ৪.৭ টন এবং উচ্চ ফলনশীল (উফসি) জাতের ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯, হীরা ও গাজী ধানের ক্ষেত্রে প্রতি হেক্টরে ৩.৭ টন করে চাষিরা উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন। ধান ঘরে ওঠার শেষ মুহূর্তে দুর্যোগ কিংবা প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উত্পাদন হবে বলে প্রান্তিক কৃষক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তরা জানান। সদর উপজেলার অন্তর্গত কবুরহাট, বাড়াদি, জয়নাবাদ, বটতৈল ও মোল্লাতেঘরিয়া গ্রামের মাঠে মাঠে এখন ধান পেকে উঠেছে। আর ৮/১০ দিন পরই পুরোদমে শুরু হবে ধান কাটা। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বাড়াদি এলাকার কৃষক আব্দুল মালেক জানান, এবার বোরো ধানের ফলন খুব ভালো হয়েছে। কুষ্টিয়ার ছয়টি উপজেলার কৃষকদের জন্য ১২টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন, তিনটি রিপার মেশিন ও একটি রাইচ ট্রান্সপ্লান্টার মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিনের মোট মূল্যের অর্ধেক দাম কৃষক দিবে এবং বাকি অর্ধেক ভর্তুকি হিসেবে দিবে সরকার। কৃষি বিভাগ ও সরকার গঠিত কমিটির মাধ্যমে ইতিমধ্যে ভর্তুকিতে আটটি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন কৃষকরা কিনে নিয়েছেন। কুষ্টিয়া কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শ্যামল কুমার বিশ্বাস জানান, বোরো আবাদের শুরু থেকেই কৃষকদের সকল পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে বলে তিনি জানান।
