ভ্যাকসিন আবিষ্কারে ঐক্যবদ্ধ বিশ্ব, নেই যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২০, ২২:৪৩

নভেল করোনা ভাইরাস থেকে সৃষ্ট কোভিড-১৯ রোগের ভ্যাকসিন ও ঔষুধ আবিষ্কারের কাজ তরান্বিত করতে ঐক্যবদ্ধ বিশ্ব। এই উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। যুক্তরাষ্ট্র এই উদ্যোগে অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে। বিশ্বে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। গতকাল পর্যন্ত বিশ্বে আক্রান্ত হয়েছে ২৮ লাখের বেশি মানুষ যেখানে মারা গেছে প্রায় দুই লাখ। সুস্থ হয়েছে ৮ লাখের বেশি মানুষ। কোভিড-১৯ এর বিস্তার ঠেকাতে জারি করা লকডাউন খুলতে শুরু করেছে বিভিন্ন দেশ। জার্মানি ও পোলান্ড সীমান্তে এই নিষেধাজ্ঞা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ চলছে।

ঐক্যবদ্ধ বিশ্ব

শুক্রবার এক ভিডিও কনফারেন্সে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসাসহ অনেক নেতা অংশ নেন। তারা করোনা ভাইরাস নির্মূলে নিরাপদ ও কার্যকর ঔষুধ তৈরি, ভাইরাস প্রতিরোধে পরীক্ষা করা ও ভ্যাকসিন আবিষ্কার এবং লক্ষণ দেখে রোগ নির্ণয় করার ওপর গুরুত্ব দেন। তারা যতো দ্রুত সম্ভব এসব কাজ এগিয়ে নিতে ঐকমত্যে পৌঁছান। নেতৃবৃন্দ ধনী-গরীব সবার জন্য সমান চিকিত্সা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আডহানোম জেব্রেইয়েসাস বলেন, আমরা সবাই একই হুমকির সম্মুখীন। তাই এই হুমকি মোকাবিলাও করতে হবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে। তিনি বলেন, আমাদের অভিজ্ঞতা বলে যে সরঞ্জামের সরবরাহ ঠিক থাকলেও সবাই সমানভাবে সেগুলো পায় না। কিন্তু সেটা করার সুযোগ আমাদের দেওয়া উচিত নয়। ২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লুর প্রাদুর্ভাবের সময় সমালোচনা হয় যে, ভ্যাকসিন সব দেশ সমানভাবে পাচ্ছে না। ধনী দেশগুলোই সেগুলো ক্রয় করে নেয়। ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লিয়েন জানিয়েছেন, আগামী ৪ মে এই উদ্দেশ্য সাধনে ৮১০ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহ করা হবে। তবে তিনি জানান, এটা তহবিল সংগ্রহের প্রথম ধাপ। আরো অর্থের প্রয়োজন হবে।

ভিডিও কনফারেন্সে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের অনেক নেতা অংশ নেন। তবে চীন, ভারত ও রাশিয়ার কোনো প্রতিনিধি অংশ নেননি। এসব দেশ এই উদ্যোগে শামিল হবে না এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। কেবল যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে তাদের অংশ না নেওয়ার কথা জানিয়েছে। জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র মিশনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে অংশ নিচ্ছেন না। এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংস্থার তহবিল স্থগিত করেছেন।

ব্রিটেনে মৃত্যু ২০ হাজার ছাড়িয়েছে

দেশটিতে ২৪ ঘন্টায় করোনা ভাইরাসে আরো ৮১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ২০ হাজার ৩১৯ জনে। এর মধ্যে কেবল ইংল্যান্ডেই প্রাণ গেছে ৭১১ জনের। মৃতদের বয়স ৩৪ বছর থেকে ১০০ বছর। ব্রিটেনে এক দিনে আক্রান্ত ৪ হাজার ৯১৩ জন বেড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৭৭ জনে। গত মাসে দেশটির বিজ্ঞান বিষয়ক উপদেষ্টা স্যার প্যাট্রিক ভ্যালেন্স এমপিদের বলেছিলেন, দেশে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ২০ হাজারের নিচে থাকবে বলে তিনি আশা করেন।

নিউ ইয়র্কে ভাইরাস এসেছে ইউরোপ থেকে

নিউ ইয়র্ক রাজ্যের গভর্ণর অ্যান্ড্রিউ কুওমো শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, গবেষণায় দেখা গেছে যে করোনা ভাইরাস চীন থেকে নয়, ইউরোপ থেকে এসেছে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় অনেক দেরি হয়েছে। এজন্যই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। কুওমো জানান, নিষেধাজ্ঞার আগেই নিউ ইয়র্কের ১০ হাজার বাসিন্দা করোনায় আক্রান্ত হন বলে ধারণা। রাজ্যে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের খবর আসে পহেলা মার্চ। তিনি বলেন, ২ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আর ইউরোপের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন অনেক পরে।

লকডাউন বাতিলে বিক্ষোভ

লকডাউন শিথিল করছে বিভিন্ন দেশ। ভারত ও পাকিস্তান ইতিমধ্যে লকডাউন শিথিল করেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় পোলান্ড ও জার্মান সীমান্তে লকডাউন খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ চলে। পোলান্ডে বাস করেন, কিন্তু জার্মানিতে কাজ করেন এমন শিক্ষক ও শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। শিক্ষক মিরেলা বিনকুইসিজ বলেন, গত ছয় সপ্তাহ ধরে আমরা ঘরে আটকা আছি। আমরা সীমান্ত অতিক্রম করতে পারছি না বলে কাজও করতে পারছি না। এখন এই অবস্থা থেকে মুক্তি চাই।