কোনও ভয়ভীতির কাছে নতি স্বীকার না করে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেছেন, ভোটারদের কাছে অনুরোধ করি, আপনার ভোট অতি মূল্যবান। কোনও রকম প্রলোভন, প্ররোচণা, প্রভাব বা ভয়ভীতির কাছে নতি স্বীকার করবেন না। স্বাধীনভাবে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনও বাহিনীর নির্লিপ্ততা বা নিষ্ক্রিয়তায় ভোটগ্রহণ ব্যাহত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ সহিংসতা বা নাশকতামূলক অবস্থা সৃষ্টি করলে তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে।
গতকাল শনিবার বিকাল ৩টায় নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত নির্বাচন পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচনের সর্বশেষ সার্বিক প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন সিইসি।
সিইসি বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সবার প্রতি আবারো অনুরোধ করতে চাই, আপনারা আচরণবিধি মেনে চলুন। সহিংসতা পরিহার করুন, প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখুন, নির্বাচনের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করুন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বলছি, দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালন করবেন। কারো কারণে নির্বাচন যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। কোনো প্রার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখার নির্দেশ দিচ্ছি। প্রার্থী ও ভোটাররা যেন ন্যায্য অধিকার থেকে ভোট দিতে পারেন।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সিইসি বলেন, অবৈধভাবে কোনও মহল ভোটকেন্দ্রে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করলে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সবার জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলার সর্বস্তরের সদস্যদের নির্দেশ দিচ্ছি। সহিংস ও নাশকতামূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে কঠোর অবস্থান নিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিচ্ছি।
গণমাধ্যমের খবরের বরাত দিয়ে সিইসি বলেন, প্রার্থীর এজেন্টদের হয়রানি করা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। কোনো এজেন্টের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো ফৌজদারি কোনো অভিযোগ না থাকলে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার বা হয়ারনি করবে না।
সিইসি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কোনো অবস্থায় তারা কেন্দ্রত্যাগ করবেন না। কেউ যদি অবৈধভাবে এজেন্টকে কক্ষ ত্যাগ করতে বলে তখন ম্যাজিস্ট্রেট বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতা নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এবং নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।
