নির্বাচন সুষ্ঠু করতে মাঠে আছে ৫০ হাজার সেনা

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৪৪

সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে সেনাবাহিনীর ৫০ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছে। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আরও সেনাসদস্য নিয়োজিত করার জন্য স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর আজিমপুর কমিউনিটি সেন্টারে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। সেনাপ্রধান বলেন, আমরা পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে একটি টিম হিসেবে কাজ করছি। কাউকে যেন কেউ ভয়ভীতি দেখাতে না পারে, সেজন্য আমরা কাজ করবো। আমাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। জনগণের মধ্যে কোনো ভয়ভীতি কাজ না করে সেজন্য টহল ও নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেব। দিন শেষে আমরা সুন্দর ও সুষ্ঠু একটা নির্বাচন চাই।

জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, আমি প্রত্যেক ডিভিশনে ও বিভিন্ন জেলায় গিয়েছি। প্রত্যেক জায়গায় আমার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, এসপি, ডিসি, কোথাও কোথাও রিটার্নিং কর্মকর্তাও ছিলেন। এছাড়া বিজিবি-র্যাবসহ অন্য প্রতিনিধিরাও ছিলেন। নির্বাচনে সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে সেনাবাহিনী সদস্যসহ অন্যদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমি গত পাঁচদিন ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন করেছি। অত্যন্ত চমত্কার পরিবেশ দেখেছি। কোথাও হুমকি আছে কি না তা জানার  চেষ্টা করেছি।

সীমান্ত এলাকার বিষয়ে তিনি বলেন, সেসব এলাকায় সেনাবাহিনীর টহল বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছি, যাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া আমাদের দেশের সংখ্যালঘু ও নিরীহরা যাতে ভোটকেন্দ্রে নিরাপদে যেতে পারেন সেজন্য সেনা সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় টহলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা অতীতে দেখেছি যারা নির্বাচনে হেরে যায়, তারা সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ করে থাকে। এ ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত সতর্ক থাকবো। সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে বলবো, আমিও এ দেশের সাধারণ একজন নাগরিক। গত ৫ থেকে ৭ দিন ঘুরে আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, গত ৪৭ বছরে এত সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন আমি দেখিনি। নির্বাচনে কিছু না কিছু সহিংসতা হয়। এবারও যে একদম হয়নি তা নয়। তবে সংখ্যা অনেক কম।

সেনাপ্রধান বলেন, আমি সকল ভোটারকে নির্ভয়ে ভোট প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি আমরা আশপাশেই থাকবো। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করবো যেন কেউ অরাজকতা করতে না পারে। সেটিই আমাদের লক্ষ্য।