সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
একটা সময় দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগে মোহামেডান আবাহনীর মতো বড়ো সংগঠনের কর্মকর্তারা পকেটের টাকায় ত্রাণ বিতরণ করতেন। আবাহনীর সাবেক সভাপতি শামসুল ইসলাম খানের তরুণ ছেলে হকির কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম খান উট্টো ১৯৮৮ সালের বন্যায় ত্রাণ দিতে গিয়ে নদীতে ডুবে অকালে মারা গিয়েছিলেন। ধানমন্ডির বাসায় উট্টোর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মিলাদে আবাহনীর প্রায় সব ফুটবলার অংশ নিয়েছিলেন। তখনকার সময় বন্যার্তদের সেবায় তহবিল সংগ্রহে ফুটবল দল এবং চলচ্চিত্র তারকারা ফুটবল ম্যাচ খেলতেন। এখন উট্টোর মতো সাহসী তরুণরা স্পিডবোট নিয়ে গ্রামের ভেতরে ভেতরে ঢুকে পানিবন্দি মানুষের ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ দেখা যায় না। তবে দেশের মানুষের প্রয়োজনে এখন এগিয়ে আসার ধরন পালটেছে।
ক্রীড়াবিদরা নিজের স্মৃতিমাখা জার্সি, ব্যাট, কেডসসহ নানা রেকর্ড জড়িয়ে থাকা ক্রীড়াসামগ্রী বিক্রি করে অর্থ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। খেলাধুলার দুনিয়ায় এই প্রথা পুরোনো হলেও এখন বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরাও পিছিয়ে নেই। এই তালিকায় ফিফার সাবেক রেফারিও রয়েছেন।
নারী ক্রিকেটার জাহানারা খাদ্য বিতরণ করেছেন। ক্রিকেট তারকা তামিম ইকবাল খাদ্য বিতরণ করেছেন। একজন অ্যাথলেটকে অর্থ দিয়েও সহযোগিতার কথা শোনা গেছে। সাকিব আল হাসান তার ব্যাট বিক্রি করেছেন। শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন মাশরাফি। মুশফিকুর রহিমের ব্যাট, মোহাম্মদ আশরাফুলের ডাবল সেঞ্চুরি করা ব্যাট, ১৯৯৯ সালে কাঠমান্ডু সাফ গেমস ফুটবলে স্বর্ণজয়ী স্ট্রাইকার আলফাজ আহমেদের জার্সি, কাঠমান্ডুর সেই দশরথের মাঠে ২০১৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল পরিচালনাকারী এক সময়ে সাংবাদিকতা করা রেফারি তৈয়ব হাসান বাবু যে জার্সি গায়ে বাঁশি বাজিয়েছিলেন সেটিও নিলামে তোলা হয়েছে। মূল্য ধরা হয়েছে ২ লাখ টাকা। গোল্ডেনবয় খ্যাত স্ট্রাইকার সাহাজউদ্দিন টিপুও ভারতের বিপক্ষে ফাইনালের জার্সিটি নিলামে তোলার কথা প্রকাশ করেছেন।
জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন তার গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায় খাদ্য বিতরণ করেছেন। ২০০২ ম্যাঞ্চেস্টার কমনওয়েলথ গেমস শ্যুটিংয়ে স্বর্ণ জয় তারকা আসিফ হোসেন খান তার স্বর্ণপদকটি করোনা আক্রান্তদের সাহায্যে নিলামে তোলা যায় কি না সেই খবরটি এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন তুলেছে। তবে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছে প্রয়াত ফুটবলার মোনেম মুন্নার স্ত্রী সুরভী মোনেম। ১৯৯৫ সালে মিয়ানমারে চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মোনেম মুন্নার জার্সিটি নিলামে তুলেছেন সুরভী মোনেম। খুব কম বয়সে স্বামীহারা দুই সন্তান নিয়ে এই নারী মুন্নার খেলার জার্সিগুলো পরম যত্নে তুলে রেখেছিলেন। মুন্নার স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকা সুরভীর জীবনে মুন্নার সুরভি ছড়াতো। ফুটবলের ইতিহাসমাখা চ্যাম্পিয়ন জার্সি নিলামে তুলে বড়ো ত্যাগই করছেন মুন্নার স্ত্রী।
