স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নতুন করে আরো ৬ হাজার সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগের জন্য চাহিদা দিলেও নিয়োগ পেতে যাচ্ছে ৫ হাজার নার্স। এ লক্ষ্যে বিশেষভাবে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। আপাতত ৫ হাজার ৫৪ জন নার্স নিয়োগের জন্য সুপারিশ করতে পারবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। সর্বশেষ ২০১৮ সালে ৫ হাজার ১০০ নার্স নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছিল। এখনো নিয়োগের জন্য অপেক্ষমাণ আছে ৫ হাজার ৫৪ জন। পিএসসির সংশ্লিষ্টরা ইত্তেফাককে বলেছেন, মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী অপেক্ষমাণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়া যাবে।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বুলেটিনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছিলেন, করোনা ভাইরাসের সংকট মোকাবিলায় ২ হাজার চিকিত্সক ও ৬ হাজার নার্স নিয়োগ দেবে সরকার। বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে বেশ কিছু চিকিত্সক-নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মী কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন। এজন্য ২ হাজার নতুন ডাক্তার এবং ৬ হাজার নতুন নার্স নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, যেহেতু কোভিড-১৯ চিকিত্সার জন্য আমরা নতুন নতুন হাসপাতাল তৈরি করছি, এছাড়া কিছু ডাক্তার-স্বাস্থ্যকর্মীকে কোয়ারেন্টাইনে যেতে হয়েছে, সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ২ হাজার নতুন ডাক্তার এবং ৬ হাজার নতুন নার্স আমরা নিয়োগ দিচ্ছি।
ডাক্তার এবং নার্স নিয়োগের এই ঘোষণার পর গত রবিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি কর্ম কমিশনকে আরো ৬ হাজার নার্স নিয়োগের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়। যদিও এখনো পর্যন্ত ডাক্তার নিয়োগের ব্যাপারে কোনো চাহিদাপত্র পাঠানো হয়নি। ২ হাজার চিকিত্সক ৩৯তম বিসিএস থেকে নিয়োগ দেওয়া হবে। নার্স নিয়োগে মন্ত্রণালয়ের চাহিদাপত্র পাওয়ার পর সোমবার থেকে সীমিত পরিসরে ফলাফল প্রস্তুতির কার্যক্রম শুরু করেছে পিএসসি। প্রতিষ্ঠানটি ক্যাডার এবং নন-ক্যাডার পরীক্ষা শাখার কার্যক্রম সীমিত আকারে চালু করেছে।
পিএসসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, অপেক্ষমাণ ৫ হাজার ৫৪ জন প্রার্থীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হবে। এখনই নতুন করে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই। নতুন করে নিয়োগ দেওয়াও সময়সাপেক্ষ। ফলে বিগত অপেক্ষমাণ তালিকার যোগ্যদের নিয়োগ দিতে আইনি কোনো সমস্যা নেই।
২০১৮ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দ্বিতীয় শ্রেণির সিনিয়র স্টাফ নার্স পদের ১০০ নম্বরের এমসিকিউ টাইপের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে পিএসসি। এমসিকিউ টাইপের পরীক্ষায় ১৬ হাজার ১৮৮ জন অংশ নেন। প্রকাশিত ফলাফলে উত্তীর্ণ হন প্রায় ১১ হাজার। ঐ বছরের ১৯ আগস্ট সিনিয়র স্টাফ নার্সের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে পিএসসি। সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে ৫ হাজার ১০০ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। মেধা ও বিদ্যমান কোটা পদ্ধতির ভিত্তিতে দশম গ্রেডে তাদের নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছিল পিএসসি। তথ্য বিভ্রাট ও প্রশাসনিক কারণে ২৮ জনের সুপারিশ স্থগিত রাখা হয়েছিল। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সেবা পরিদপ্তরের আওতায় ৪ হাজার সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ৬০০ মিডওয়াইফ নিয়োগের জন্য ২০১৭ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সরকারি কর্ম কমিশন।
নার্স নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক ইত্তেফাককে বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে আমরা নার্স নিয়োগের একটি চাহিদা পেয়েছি। সেই অনুযায়ী বিশেষভাবে পিএসসির কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে নার্স নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা যাবে।
