বিপর্যয় মোকাবিলায় বৈশ্বিক সমন্বয়ের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২০, ০০:৩৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাস মহামারির মতো ভবিষ্যতে যে কোনো বৈশ্বিক বিপর্যয় কার্যকরভাবে মোকাবিলায় বৈশ্বিক সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘আমি ভবিষ্যতে যে কোনো বৈশ্বিক বিপর্যয় কার্যকরভাবে মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সবার জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনের মতো স্বাস্থ্য বিষয়গুলোতে আরো নীতি ও আর্থিক গুরুত্ব প্রদানে বিশ্বব্যাপী সমন্বয়ের আহ্বান হিসাবে সবাইকে এই সংকটকে সতর্কতা হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছি।’ শনিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক ডা. টেড্রস অ্যাডহ্যানম জিব্রেইসাসকে লেখা এক চিঠিতে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বহুপাক্ষিকতায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। সংক্রামক রোগ এবং মহামারি কোনো সীমানা মানে না, তাই আমরা কোভিড-১৯-এর বিস্তার রোধে সার্কের কর্মকাণ্ডের আওতায় আঞ্চলিকভাবে এবং সার্বিকভাবে জাতিসংঘ ও ডব্লিউএইচওর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সংযুুক্ত হয়েছি। কেননা সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন সংকট।’ এ সময়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা প্রদানকারী দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করি যে, এই মহাবিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে ডব্লিউএইচও এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আমাদের পাশে থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী এই আপত্কালে নিরন্তর প্রচেষ্টা এবং নেতৃত্বের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, অচিরেই আমরা সম্মিলিতভাবে এই কালো অধ্যায় অতিক্রম করতে সক্ষম হব।’ প্রধানমন্ত্রী ২০২০ সালের ২৩ মার্চে তার লেখা বিশদ চিঠির জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় তার অব্যাহত ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ এবং নেতৃত্বের জন্যও শেখ হাসিনা তাকে ধন্যবাদ জানান।

প্রাণঘাতী ভাইরাস প্রতিরোধে তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা চিঠিতে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার এ ব্যাপারে কাজ শুরু করেছে এবং জাতীয় জরুরি পরিকল্পনা হিসেবে ‘কোভিড-১৯ সংক্রান্ত একটি জাতীয় প্রস্তুতি ও সাড়া প্রদান পরিকল্পনা’ প্রণয়ন করেছে।’ তিনি বলেন, ‘একটি ‘জাতীয় কমিটি’ ও অন্য একটি ‘টেকনিক্যাল কমিটি’র অধীনে ডব্লিউএইচওর নির্দেশিকা অনুসারে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হচ্ছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার জরুরি প্রোটোকল সক্রিয় করতে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাড়া প্রদান ব্যবস্থাপনার সমন্বয় করতে পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকার সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণের জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ডব্লিউএইচওর কড়া নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার ব্যাপক পরীক্ষা ও আইসোলেশন বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছে এবং সারাদেশে করোনা পরীক্ষার সুযোগ সম্প্রসারিত এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ পরীক্ষার কিট সংগ্রহ করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার সারাদেশে নিবেদিত আইসোলেশন কেন্দ্র স্থাপন করেছে, পৃথক হাসপাতাল প্রস্তুত করেছে এবং ম্যানেজমেন্ট প্রোটোকল অনুযায়ী আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের কোভিড-১৯ ব্যবস্থাপনার জন্য প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী সরবরাহের ঘাটতির মধ্যেও আমরা স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় পিপিই সরবরাহ করতে সফল হয়েছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘ডব্লিউএইচও বিভিন্ন প্রোটোকল ও নির্দেশিকা প্রণয়ন এবং সেগুলো ব্যবহার ও অভিযোজনের জন্য আমাদেরকে প্রদান করেছে, তার জন্য বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ।’

বর্তমানে বাংলাদেশে ১৩০টি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চলমান রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে সমাজের শ্রমিক ও অনুরূপ দরিদ্র অংশের প্রতি অধিকতর বেশি মনোযোগ দিয়ে আমাদের জিডিপির ৩.৫ শতাংশ ১১.৬০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। সরকার ৫ কোটি মানুষকে সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা দিচ্ছে এবং দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য এ পর্যন্ত ৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য শস্য বরাদ্দ করা হয়েছে। ১১ লাখ রোহিঙ্গাও আমাদের সামগ্রিক কৌশলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’