শাকসবজি ও কৃষিপণ্য রক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২০, ২২:৩৯

করোনা পরিস্থিতিতে দেশে উত্পাদিত শাকসবজি ও কৃষিপণ্য যাতে নষ্ট না হয়ে যায়, সেজন্য বাজারজাতকরণসহ বেশ কিছু বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যেহেতু শাকসবজি পচনশীল তাই এর পরিবহন নির্বিঘ্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারের ত্রাণসামগ্রীতে আলু, সবজি, পেঁয়াজ ইত্যাদি কৃষিপণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গতকাল সোমবার কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে করোনা পরিস্থিতিতে শাকসবজি, বীজ ও সতেজ কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ও সরবরাহে করণীয় নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অনলাইন সভায় এ কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কৃষিপণ্যের ভ্রাম্যমাণ বাজার পরিচালনা শুরু করেছে। পাশাপাশি, লকডাউন এলাকার উদ্বৃত্ত কৃষিপণ্য ঘাটতি এলাকায় পাঠানোর ক্ষেত্রে ট্রাক চলাচলের জন্য জেলা প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, সভায় পাওয়া সুপারিশ অনুযায়ী বিআরটিসির ট্রাক ব্যবহার, বিদেশে রপ্তানির জন্য কার্গো ভাড়া, দেশের সুপার শপ খোলা রাখার সময়সীমা বাড়ানো এবং সমন্বয়ের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে কৃষি উত্পাদনের বর্তমান ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে উত্পাদন বাড়াতে গুণমানসম্পন্ন বীজ উত্পাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিতকরণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সার্বক্ষণিক উদ্ভিদ সঙ্গ নিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, গত প্রায় এক মাসে জরুরি পরিস্থিতিতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের ৯৩টি উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সনদপত্র এবং আমদানিকৃত টাটকা ফল ও মসলাজাতীয় পণ্যের ১ হাজার ৪০টি, কাঁচা তুলা ও ডালজাতীয় পণ্যের ৪১৩টি এবং চাটার্ড ভেসেলে আমদানিকৃত পণ্যের ১৪৫টি ছাড়পত্র ইস্যু করা হয়েছে। এ সময়ে বিভিন্ন আমদানি পণ্যের অনুকূলে ৪৬৭টি আমদানি অনুমতিপত্র ইস্যু করা হয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, ব্রুনাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রভৃতি দেশে সাড়ে ৪ হাজার টন আলু রপ্তানির ৯৩টি উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সনদপত্র ইস্যু করা হয়েছে।

চলতি বোরো মৌসুমে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১ লাখ টন বোরো বীজ ধান ও ১০ হাজার টন হাইব্রিড ধান বীজ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। এ অনলাইন সভায় কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ, বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. সায়েদুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুল মুঈদ এবং হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো. মঞ্জুরুল হান্নান প্রমুখ সংযুক্ত ছিলেন।