পবিত্র রমজান মাস শুরু হলেই প্রতি বছর রাজধানীতে বিভিন্ন অলিগলি থেকে শুরু করে সব এলাকায় দোকানিরা পসরা সাজিয়ে বসেন ইফতারসামগ্রীর। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর ৫০ লাখ মানুষ প্রতিদিন ইফতারসামগ্রী কিনে পবিত্র এই রমজানে ইফতার করে থাকেন। কিন্তু এবার করোনা ভাইরাসের কারণে দোকান ও ফুটপাতেও ইফতারির সেই পসরার দেখা মিলছে না। তাই ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।
নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দোকান বেলা ২টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশনার কারণে দুপুরের ভেতরেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বেশির ভাগ দোকান। যার কারণে রাজধানীতে নিম্ন মধ্যবিত্ত হতে শুরু করে দিনমুজুর খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছেন বিপাকে। যারা সারাদিন রোজা রাখার পর অল্প টাকার ইফতারসামগ্রী কিনে ইফতার সারতেন তারা সেটি এখন আর পারছেন না। রাজধানীতে বসবাসরত বড়ো একটি জনগোষ্ঠী এসব দোকানের ইফতারের ওপর নির্ভরশীল ছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজান মাসে মানুষ কেনাকাটা করে দুপুরের পর। ঐ সময় দোকানপাট বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন ক্রেতারা নিত্যপণ্য কেনাকাটা করতে পারছেন না। অন্যদিকে রাজধানীতে বসবাস করা মানুষের বড়ো একটি অংশ বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকায় ইফতারসামগ্রী পাচ্ছেন না। কাওরানবাজারে কর্মরত এক সিকিউরিটি গার্ড বলেন, ‘ডিউটিতে আসার সময় খাবার নিয়ে এসেছিলাম। ওটা দিয়েই সেহরি করি। এখন কিছু নেই, বিস্কুট দিয়ে ইফতার করতে হবে। একটু ভুল হয়েছে, আগে বুঝতে পারিনি। এরপর থেকে সকালেই কিছু কিনে রাখতে হবে।
পুরান ঢাকায় সব সময় বাহারি রকম ইফতারির হাট বসত। এখন সেখানেও বসছে না কোনো ইফতারির বাজার। পুরান ঢাকার বাসিন্দা আব্দুল হালিম মিয়া জানান, ‘এখানে গত বছর কত বাহারি ইফতারের দোকান বসেছিল। এবার পুরো ফাঁকা। সব কিছু বন্ধ। উত্তরায় রিকশাচালক নাজিম উদ্দিন। সারাদিন রোজা রেখে ইফতারি করবেন কী দিয়ে জানেন না। তিনি বলেন, ‘আগে যেখানে ২০ থেকে ২৫ টাকা দিয়ে ভালো মানের ইফতারির সামগ্রী কেনা যেত এখন সেটিও বন্ধ।’ অন্যদিকে ব্যাচেলররাও পড়েছেন ঝামেলায়। কারণ বেশির ভাগ ব্যাচেলর বাইরে থেকে ইফতারসামগ্রী কিনে ইফতারি সারতেন। কিন্তু এবার এসব দোকান বন্ধ থাকায় তারা বিপদে পড়েছেন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা ব্যাচেলর মো. আলী হোসেন জানান, ‘গত রাতের রান্না করা খাবার ছিল, তা দিয়েই ইফতার করেছি।’ এ বিষয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘রাজধানীর ৫০ লাখ লোক বাইরে থেকে ইফতার কেনেন। চলমান সংকটে এত সংখ্যক লোক ইফতার কীভাবে করবেন। এসব বিষয়ে বিবেচনা করে মুদি ও খাদ্যপণ্যের দোকান হয় সারা দিন খোলা রাখা অথবা খোলা রাখার সময় বাড়ানো দরকার।’
