নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুনের ঘটনার ছয় বছর পূর্ণ হলেও অদ্যাবধি হত্যাকাণ্ডের রায় বাস্তবায়ন হয়নি। নিম্ন-আদালতের পরে হাইকোর্টেও দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। কিন্তু হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল বিচারাধীন। এই ঘটনায় নিহতের স্বজনরা এখন তাকিয়ে আছেন সর্বোচ্চ আদালতের দিকে। তারা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে দ্রুত আপিল নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিলে এই মামলা নিষ্পত্তি হওয়া সম্ভব। কারণ আসামি পক্ষ কখনোই চাইবে না মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি হোক।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে হাজিরা শেষে প্রাইভেট কারে ফিরছিলেন নাসিকের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম। একই সময়ে আদালতের কার্যক্রম শেষে অপর একটি প্রাইভেট কারে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম। পরে তাদেরকে অপহরণ করে হত্যা করেন র্যাব সদস্যরা। এ ঘটনায় দায়েরকৃত দুটি মামলায় ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি আসামি নূর হোসেন, র্যাবের চাকরিচ্যুত অধিনায়ক লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, উপ-অধিনায়ক মেজর (অব.) আরিফ হোসেন ও ক্যাম্প ইনচার্জ লে.কমান্ডার (অব.) এম এম রানাসহ ২৬ জনের ফাঁসির আদেশ দেয় আদালত। বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেওয়া হয়। ঐ বছরের ২২ আগস্ট নূর হোসেন, তারেক সাঈদসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে হাইকোর্ট। বাকি ১১ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন দণ্ড। এই রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল এখন আপিল বিভাগে বিচারাধীন।
