এক জন দিলেন জুতা সেলাইয়ের টাকা, অন্যজন ঘর তৈরির পুরো সঞ্চয়

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২০, ২৩:০১

দেশের বর্তমান করোনা পরিস্থিতির সুযোগে চার দিকে যখন জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা দরিদ্রদের ত্রাণের টাকা এবং ত্রাণসামগ্রী আত্মসাতের খবর আসছে তখন মানবতার অন্যতম নিদর্শন হয়ে এলেন রংপুর এবং ঝিনাইদহের দুই হতদরিদ্র ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে জুতা সেলাই করে জমানো ২০ হাজার টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা দিয়ে দিয়েছেন রংপুরের হতদরিদ্র এক হরিজন ব্যক্তি। অপরদিকে ঝিনাইদহের এক ভ্যানচালক ঘর তৈরির জন্য জমানো ৫০ হাজার টাকা করোনা আক্রান্তদের চিকিত্সার জন্য দান করেছেন।

রংপুর থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, ত্রাণ চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিভিন্ন অঞ্চলে ইতিমধ্যে ৩৫ জন জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্ত করা হয়েছে কিংবা গ্রেফতার করা হয়েছে। তখন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিরল দৃষ্টান্ত দেখালেন মিঠাপুকুরের লতিবপুর ইউনিয়নের আবদুল্লাহপুর গ্রামের দলিত সম্প্রদায়ের মিলন রবিদাস। তিনি মূলত একজন হরিজন (মুচি)। জুতা সেলাই করে সংসার চলে তার। গতকাল সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেওয়ার জন্য মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুন ভূঁইয়ার হাতে ২০ হাজার টাকা তুলে দেন তিনি। মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদের পাশে জুতা সেলাই করে তার সংসার চলে।

অপরদিকে, ইত্তেফাকের ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহে ভ্যানচালক রাজ কুমার বিশ্বাস ঘর তৈরির জন্য জমানো ৫০ হাজার টাকা গতকাল জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথের হাতে তুলে দেন। রাজ কুমার বিশ্বাসের ঘর ছিল নবগঙ্গা নদীর পাড়ে সরকারি জমিতে। মাস দেড়েক আগে নদী দখলমুক্ত করার অভিযানে তার ঘর ভাঙা পড়ে। পরে ঘর তৈরির জন্য তিলে তিলে সঞ্চয় করেন ঐ টাকা। সে টাকা তুলে দিলেন করোনা আক্রান্তদের চিকিত্সার জন্য। রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, কোনো কিছু পাওয়ার জন্য নয়, মানুষের সেবার জন্য এ টাকা দান করেছেন তিনি।