আরো সাত জনের মৃত্যু, নতুন সংক্রমিত ৪৯৭ জন

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২০, ২৩:১১

এক দিনে আরো সাত জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৫২ জন। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৪৯৭ জনের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় আক্রান্তের মোট সংখ্যা বেড়ে ৫ হাজার ৯১৩ জন হয়েছে। হাসপাতালে থাকা রোগীদের মধ্যে গত এক দিনে সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরো ৯ জন। এ পর্যন্ত মোট ১৩১ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে সোমবার দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ছয় জন পুরুষ, এক জন নারী। তাদের পাঁচ জন ছিলেন ঢাকার বাসিন্দা, এক জন সিলেটের, এক জন রাজশাহীর। যে সাত জন মারা গেছেন, তাদের পাঁচ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, এক জনের বয়স ৪০ থেকে ৫১ বছরের মধ্যে। এছাড়া এক জন শিশু মারা গেছে, যারা বয়স দশ বছরের নিচে। ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬০টিতেই কোভিড-১৯ রোগী পাওয়া গেছে। খুলনা বিভাগে নতুন করে ঝিনাইদহ জেলায় রোগী পাওয়া গেছে। এ বিভাগে শুধু সাতক্ষীরা জেলা এখনো মুক্ত রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি এবং রাজশাহী বিভাগের নাটোর জেলায় কারো মধ্যে এখনো সংক্রমণ ধরা পড়েনি।

এর আগে দেওয়া রাজশাহী বিভাগের তথ্যে সংশোধনের কথা জানিয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, রবিবার নাটোরে যে রোগীর কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছিল, প্রকৃতপক্ষে তিনি ঢাকার বাসিন্দা। বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৪ হাজার ১৯২টি, যার মধ্যে পরীক্ষা হয়েছে ৩ হাজার ৮১২টির। কোভিড-১৯-এর মতো লক্ষণ রয়েছে এমন ৫০ হাজার ৪১০ জন রোগীর নমুনা এ পর্যন্ত পরীক্ষা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৮৫ জনকে, সব মিলিয়ে এখন আইসোলেশনে আছেন ১ হাজার ২২০ জন। সারাদেশে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৭৭ হাজার ৬৭৯ জন।

ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা আছে ৯ হাজার ৬৩৮টি, ঢাকা মহানগরীতে রয়েছে ৩ হাজার ৯৪৪টি, ঢাকা সিটির বাইরে ৫ হাজার ৭৯৪টি আইসোলেশন শয্যা আছে। সারাদেশে আইসিইউ ইউনিটের সংখ্যা ৩৪১টি, ডায়ালাইসিস ইউনিট আছে ১০২টি। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২ হাজার ৭৪৫টি ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংগ্রহ করেছে, বিতরণ হয়েছে ১২ লাখ ৯১ হাজার ৯৮টি। এ পর্যন্ত মজুত রয়েছে ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ৫৭টি ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী।