গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় কৃষকের বোরো ধান ঘরে তুলতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। কৃষকদের ধান ঘরে তুলতে ‘চাষীর হাসি সেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ খুলেছেন তিনি। সোমবার থেকে এই সেলে কার্যক্রম শুরু করেছেন।
কোটালীপাড়া উপজেলার কর্মক্ষম বেকার, বিভিন্ন পেশাজীবী কর্মহীন ব্যক্তি, পরিবহন শ্রমিক, বিভিন্ন দোকানে নিয়োজিত শ্রমিক, নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য, ছাত্র ও যুব সমাজসহ সর্বসাধারণ যারা নিজ প্রয়োজনে অথবা দায়িত্ব বোধের কারণে শ্রমিক হিসেবে বা স্বেচ্ছাশ্রমে ধান কেটে দিয়ে কৃষকদের সহযোগিতা করতে চান তাদেরকে রেজিস্ট্রশন করতে আহ্বান করা হয়েছে।
প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদে ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে আগ্রহী ব্যক্তিকে রেজিস্ট্রেশন করতে অনুরোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘চাষীর হাসি সেল’ ফেসবুক পেইজ থেকে রেজিস্ট্রেশন ফরম সংগ্রহ করা যাবে।
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, উপজেলার ২৪ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত বোরো ধান সংগ্রহ নিয়ে চাষীরা চিন্তায় আছে। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার শ্রমিক এ এলাকায় ধান কাটার কাজে আসে। কিন্তু এবার করোনা পরিস্থিতিতে দূর দূরান্ত থেকে শ্রমিকদের আসাটা বেশ কষ্টকর। এ পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও সংগঠন স্বেচ্ছাশ্রমে কৃষকদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন।যা প্রশংসনীয় ও আশাব্যঞ্জক। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় এ সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় এখনো অনেক চাষী ধান সংগ্রহ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
তিনি জানান, কোটালীপাড়ার উদ্যোগ, চাষীর হাসি সেল। এ সেল কর্মক্ষম বেকারদের রোজগারের ব্যবস্থা করতে দায়িত্বশীল স্বেচ্ছাসেবীদের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ করতে এবং কৃষকদের ধান ঘরে তুলে কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে কাজ করবে। অপরদিকে, যে সকল চাষী নিজ জমির ধান সংগ্রহ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা এ সেলে প্রয়োজনীয়তার কথা জানাতে পারবেন। চাষীর হাসি সেল মূলত দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে উভয়পক্ষের কল্যাণ নিশ্চিতকরণের চেষ্টা করবে।
চাষীর হাসি সেলে যোগাযোগ করা যাবে ০১৭৩৪ ৭০৫০৯৯, ০১৭৪৫ ৩৮৭১৩৫ অথবা ০১৯১৮ ৬৮৩২৬৫ নম্বরে। ফেসবুক পেজ- ‘চাষীর হাসি সেল’ অথবা সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে রুম- ৩১২, উপজেলা পরিষদ ভবন, কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ।
ইত্তেফাক/আরকেজি
