বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এক হয়ে কাজ করতে হবে

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২০, ২২:০৯

বর্জ্যের অব্যবস্থাপনার কারণে যে ঝুঁকি বাড়ছে তার যদি হিসেব কষা হয় তবে সে টাকায় আরেকটা সুস্থ নগর গড়ে তোলা সম্ভব হবে! ভূগর্ভস্থ পানি, নদীদূষণ, খাল ভরাট, মিথেনসহ অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাসের বৃদ্ধি এবং বায়ুদূষণসহ মানসিক স্বাস্থ্যের বিকৃতি ঘটার জন্যও দায়ী বর্জ্যের অব্যবস্থাপনা। একসময় নাইট্রোজেন চক্রের সঠিক ক্রিয়াকলাপও বড়ো বাধা হয়ে দাঁড়াবে এবং তা শুরুও হয়ে গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বর্জ্য ইতিমধ্যে ফেলার স্থানের আশেপাশের ইকো সিস্টেমেও।

গাজীপুরের শ্রীপুরের গড়গড়িয়া মাস্টার বাড়ির রাস্তার পাশে যেখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে সেখানকার উদাহরণ দিতে গেলে দেখা যায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জলজ প্রাণীর, কৃষিজমির, বৃক্ষের এবং পশুপাখি ও মানবস্বাস্থ্যের। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়ে যখন কারো দৃষ্টি পড়েনি—সেখানে সারাদেশেই ময়লার এমন অব্যবস্থাপনা!

টেকসই উন্নয়নে নগর পরিকল্পনাবিদরা কী ভাবছেন আর কী হচ্ছে এ বিষয়টিই হচ্ছে সবচেয়ে আক্ষেপের। আমরা কতটুকু করতে পারি? একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে দেশের প্রতি দায়িত্ব নিয়ে বারবার বলে যাওয়ার পরও ময়লা দূষণের প্রধান মাধ্যম থেকেই যাচ্ছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে এখন থেকেই। বিশেষ করে বর্জ্যকে অর্থনৈতিক সম্পদে রুপান্তর  না করতে পারলে আমাদের সামনের দিনগুলোতে যে হুমকিগুলো মোকাবিলা করতে হবে তা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য বড়ো বিপদ বয়ে দাড়াবে। পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জনদের এক হয়ে কাজ করতে হবে। যদি যথাযথ পরিকল্পনা অনুযায়ী না আগানো যায় তবে বর্জ্যের অব্যবস্থাপনা নিয়ে আমাদের হতাশা কখনোই কাটবে না।

সাঈদ চৌধুরী

শ্রীপুর, গাজীপুর