করোনা পরিস্থিতিতে গাইবান্ধায় রক্ত সংকট

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২০, ২২:২৯

দুর্ভোগে রোগীরা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

করোনা ভাইরাসের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গাইবান্ধায় রক্ত সংকটে থ্যালাসেমিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত রোগীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বর্তমান এই পরিস্থিতিতে দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় গ্রুপের রক্ত মিলছে না। এতে করে চরম বিপাকে পড়েছেন রোগীর স্বজনরা। স্বেচ্ছায় রক্তদান করা ব্যক্তি ও সংগঠনের সদস্যদের বেশির ভাগই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ায় এবং চলমান পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার প্রেক্ষাপটে এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারনা।

গাইবান্ধা সদর জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সাধারণত এই হাসপাতালে প্রতি মাসে ১২০ থেকে ১৫০ ব্যাগ রক্ত স্ক্রিনিং (রোগের পরীক্ষা) করা হয়। কিন্তু গত এক মাসে স্ক্রিনিং করা হয়েছে মাত্র ৫০ জনের। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে রক্ত পরিসঞ্চালন সেবা চালু নেই। সেখানে রক্তের প্রয়োজন হলেই রোগীদের গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

পলাশবাড়ী উপজেলার পার আমলাগাছী গ্রামের রমিছা বেগম বলেন, ৩১ বছর বয়সি তার থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ছেলেকে ছোটোবেলা থেকেই নিয়মিত রক্ত দিতে হয়। এখন জরুরিভাবে তার দুই ব্যাগ ‘ও পজিটিভ’ রক্তের দরকার। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেকাটারি গ্রামের রিকশাচালক বাকী মিয়া বলেন, আমার ছোটো ছেলেকে দুই মাস পরপর রক্ত দিতে হয়। কিন্তু করোনার এই পরিস্থিতিতে রক্ত সংগ্রহ করতে পারছি না।

স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন ‘বাঁধন’ গাইবান্ধা সরকারি কলেজ ইউনিটের সভাপতি শাহাদাত্ হোসেন বলেন, স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতি মাসে আমরা ৭০ ব্যাগের বেশি রক্ত স্বেচ্ছায় বিভিন্ন রোগীদের দিতাম। এখন সেখানে গত এক মাসে মাত্র চার জন রোগীকে রক্ত দিতে পেরেছি। গাইবান্ধা সন্ধানী ডোনার ক্লাবের কার্যকরী উপদেষ্টা নাহিদ হাসান চৌধুরী রিয়াদ জানান, এই পরিস্থিতিতে কিছু ক্লিনিকের অসাধু কর্মচারীর সহায়তায় পেশাদার রক্তদাতারা রক্ত বিক্রি করছেন। আর ক্লিনিকগুলো এসব রক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই রোগীকে দিচ্ছে। এতে রোগীদের মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে।

গাইবান্ধা সন্ধানী ডোনার ক্লাবের সভাপতি ও সিভিল সার্জন এ বি এম আবু হানিফ বলেন, রক্ত সংগ্রহ ও সরবরাহ যাতে বিঘ্নিত না হয় সেজন্য সন্ধানীকে একটি মোটরসাইকেল চালানোর পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। যাতে তারা স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের বাড়িতে গিয়ে রক্ত সংগ্রহ করতে পারে।