আরো তিন জনের মৃত্যু সর্বোচ্চ শনাক্ত ৫৪৯

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২০, ২২:৫১

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনা মোট ১৫৫ জনের প্রাণ কেড়ে নিল। আক্রান্ত হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরো ৫৪৯ জন। এটি এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যা। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ৬ হাজার ৪৬২ জন। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন আরো আট জন। এ নিয়ে সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩৯ জন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, করোনা ভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৪ হাজার ৩৩২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৪ হাজার ৭৩৩টি। নতুন যাদের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, তাদের মধ্যে আরো ৫৪৯ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৪৬২ জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরো তিন জন। তারা সবাই পুরুষ, ঢাকার বাসিন্দা এবং  ষাটোর্ধ্ব। এছাড়া সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরো আট জন। সব মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১৩৯ জন। নতুন করে আর কোনো জেলা বা এলাকায় সংক্রমণের খবর না আসায় সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত দেশের ৬০টি জেলায় কোভিড-১৯ রোগীর সন্ধান মিলেছে। সাতক্ষীরা, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও নাটোর জেলায় এখনো কারো মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েনি বলে আগের দিনের বুলেটিনে জানানো হয়েছিল।

বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ১১১ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১ হাজার ২৪৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৪৭ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন ৭৮৫ জন। সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা রয়েছে ৯ হাজার ৭৩৮টি। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে আছে ৩ হাজার ৯৪৪টি ও ঢাকার বাইরে ৫ হাজার ৯৯৪টি। বর্তমানে করোনা চিকিত্সার জন্য আইসিইউ শয্যা রয়েছে ৩৪১টি এবং ডায়ালাইসিস ইউনিট আছে ১০২টি। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৩৯২ জনকে। এ পর্যন্ত হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ৭৯৩ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়া পেয়েছেন ৩ হাজার ২৩১ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৭৬ হাজার ৮৪০ জন।

সারাদেশের ৬৪ জেলা এবং সেখানকার উপজেলায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৬০১টি প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে তাত্ক্ষণিকভাবে ৩০ হাজার ৬৩৫ জনকে কোয়ারেন্টাইন সেবা দেওয়া যাবে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে।