রাজশাহীতে কোভিড-১৯ (করোনা) চিকিত্সায় ২০টি ভেন্টিলেটরসহ পৃথক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) প্রস্তুত রয়েছে। কোভিড-১৯ রোগী স্থানান্তরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের কর্মচারীদের পৃথক দলও গঠন করা হয়েছে। ১৫টি ভেন্টিলেটরসহ ২০ শয্যার আইসিইউতে আরো পাঁচটি ভেন্টিলেটর ও পাঁচটি নেগেটিভ প্রেসার আইসোলেশন রুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চিকিত্সকদের অন্তত ছয়টি দল (প্রতি দলে তিন চিকিত্সক, ১০ নার্স ও চার কর্মচারী) সাত দিন কাজ করে ১৪ দিনের আইসোলেশনে থাকবে। প্রশাসন ও রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রেস ব্রিফিং করে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানালেও মাত্র এক জন রোগীর মৃত্যুতেই জনসম্মুখে বেরিয়ে পড়েছে রাজশাহীতে করোনা চিকিত্সা প্রস্তুতির গলদ! শুধু তাই নয়, চিকিত্সা না পাওয়ার অভিযোগও তুলেছেন ওই মৃতের স্বজনরা।
মৃতের স্বজনদের অভিযোগ, ২০ এপ্রিল রাতে তিনি করোনা সংক্রমিত শুনেই চিকিত্সকরা দূরে সরে যান। রাতেই পঞ্চম মেডিসিন ইউনিটের চিকিত্সক-কর্মচারীরা সবাই চলে যান। পরদিন চিকিত্সাধীন অন্তত ২০ রোগীকে সরিয়ে দিয়ে ইউনিট লকডাউন করা হয়। সংক্রমিত ব্যক্তিকে আইসিইউতে স্থানান্তরের পরিবর্তে স্ত্রী ও ছেলের মাধ্যমে জোরপূর্বক আইসোলেশনে পাঠানো হয়।
মৃতের স্বজনরা দাবি করেন, ‘আমরা আইসোলেশনেও কোনো ডাক্তার পাইনি। আব্বাকে বাঁচানো যাবে না, সেটা আগেই টের পেয়েছিলাম। হাসপাতালের সবার ব্যবহার সে রকমই ছিল। এক জন ডাক্তার ২৪ ঘণ্টায় একবার মাত্র জানালা দিয়ে আব্বাকে দেখে যেতেন। আব্বাকে বাঁচানোর কোনো চেষ্টাই কেউ করেননি। আমি আর আমার মা এই রোগকে ভয় পাইনি। আমরা আব্বার সঙ্গে একই ঘরে থাকতাম। তার মৃত্যুর তিন দিন আগে আমাদের আলাদা থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৭ এপ্রিল মূত্রথলির সমস্যা নিয়ে জেলার বাঘার ৮০ বছরের ওই ব্যক্তি পঞ্চম মেডিসিন ইউনিটে ভর্তি হন। পরে রোগীর জ্বর ও শ্বাসকষ্ট থাকায় এক্স-রে করা হয়। প্রতিবেদনে নিউমোনিয়া আসায় করোনা সন্দেহে নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সূত্র মতে, তীব্র শ্বাসকষ্টের কারণে তার জরুরি আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সাপোর্ট প্রয়োজন ছিল। গত ৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিভাগীয় সমন্বয় সভার সিদ্ধান্ত হয়েছিল বেসরকারি সিডিএম হাসপাতালের ছয়টি ভেন্টিলেটরসহ আইসিইউ করোনা চিকিত্সায় ব্যবহূত হবে। ওই বৃদ্ধকে সেখানেও নেওয়া হয়নি। বরং ওই রোগীকে তার স্ত্রী ও ছেলের মাধ্যমে অধীনস্থ সংক্রামক ব্যাধি (আইডি) হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়া তার সংস্পর্শে আসা চিকিত্সক, নার্স ও কর্মচারীসহ ৩৯ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। তবে নমুনা পরীক্ষার তাদের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। এমনকি মৃতের স্ত্রী ও ছেলের নমুনার রিপোর্টও নেগেটিভ এসেছে।
তবে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, ‘আইসিইউ ব্যবহারে রোগীর স্বজনরা অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।’ তবে বক্তব্য অসত্য দাবি করে মৃতের ছেলে বলেন, ‘আব্বা শ্বাস নিতে পারছিলেন না। তার পরও তাকে আইসিইউতে নিতে কর্তৃপক্ষ আগ্রহী ছিলেন না। বার বার অনুরোধের প্রেক্ষিতে আমাকেই বলেছিলেন আব্বাকে আইসিইউতে নিতে। আমি আর আমার মা কীভাবে আব্বাকে আইসিইউতে নিতে পারতাম?’ অব্যবস্থাপনার বিষয়ে রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক সাইফুল ফেরদৌস বলেন, সব প্রশ্নের উত্তর তার কাছে নেই। ফোনে বা এসএমএসে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।
