টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ঢাকা ফেরত করোনায় আক্রান্ত বৃদ্ধা রেনু বেগম (৫৫) মারা গেছেন।
বুধবার দিবাগত রাতে বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের আইসোলেশনে তিনি বিনা চিকিৎসায় মারা যান বলে বৃহস্পতিবার ভওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেন নিশ্চিত করেছেন।
উপজেলা প্রশাসন নিরাপত্তার জন্য আক্রান্ত দুই জনের এলাকায় ১১০ বাড়ি লগডাউন ঘোষণা করেছেন। নতুন করে দুই জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় ও রেনু বেগম মারা যাওয়ার ঘঁনায় এলাকায় আতংক সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া করোনায় আক্রান্ত এক ব্যক্তি রাজবাড়ী থেকে মির্জাপুরের সীমান্তবর্তী ধামরাই এলাকায় শ্বশুর বাড়ি এসে আশ্রয় নেওয়ায় ওয়ার্শী ইউনিয়নের দেউলীপাড়া এলাকায় আরও ২৫ বাড়ি লগডাউন করে দেওয়া হয়েছে। তাকে রাজধানী ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে পাঠানোর পর সেখান থেকে চলে আসায় ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস (সরকারী হাসপাতাল ) সুত্র জানায়, ২৯ এপ্রিল মঙ্গলবার পর্যন্ত মির্জাপুরে পৌরসভাসহ ১৪ ইউনিয়নে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ও বিদেশ ফেরত ১৬০ জন নারী পুরুষের করোনা ভাইরাসের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে তিন জনের রক্তে করোনা পজিটিভ ধরা পরে। গত ৬ মার্চ প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ফেরত ভাওড়া গ্রামের এক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হন। তিনি বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের আইসোলেশনে ১৫ দিন চিকিৎসা থাকার পর ২৪ এপ্রিল সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
করোনায় আক্রান্ত অপর ব্যক্তি ঢাকায় জুয়েলারি দোকানে স্বর্ণের কাজ করতেন এবং রেনু বেগম ঢাকায় বোনের বাসায় থাকতেন। গত ২৫ এপ্রিল এই দুই জন বাড়ি আসলে আশপাশের লোকজন বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক, সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. যুবায়ের হোসেন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানমকে জানান। খবর পাওয়ার পর উপজেলা সরকারী হাসপাতালের স্বাস্থ্য সহকারীগণ দুই জনের বাড়ি গিয়ে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার আইইডিসিআর এ পাঠায়।গত সোমবার তাদের রক্তের রিপোর্টে পজিটিভ আসে। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় গত মঙ্গলবার তাদের বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের আইসোলেশনে পাঠানো হয়।
সাটিয়াচড়া গ্রামের ওই ব্যক্তির বাড়ির আশপাশে ৬০ টি বাড়ি এবং রেনু বেগমের কামারপাড়া গ্রামের বাড়ির আশপাশের ৫০ বাড়িসহ ১১০ বাড়ি লগডাউন করা হয়েছে। সোমবার দেউলীপাড়া গ্রামে আরও ২৫টি বাড়ি লগডাউন ঘোষণা করেন উপজেলা প্রশাসন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদ খানম বলেন, করোনায় আক্রান্ত দুই জন ঢাকা ফেরত ছিলেন। চিকিৎসার জন্য তাদের বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাতে রেনু বেগম হাসপাতালে মারা যান। আল মারকাতুল নামে একটি সংগঠন তার লাশ দাফন করছেন। লগডাউনে থাকা পরিবারগুলোকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সহযোগিতা নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবার ব্যবস্থাসহ সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
ইত্তেফাক/এমআরএম
