কাশিয়ানীতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ডিলারের স্ত্রী, মা ও ভাইয়ের নাম 

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২০, ১৫:৩০

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার পুইশুর ইউনিয়নে ১০ টাকা মূল্যের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকার ডিলারের স্ত্রী, মা ও ভাইয়ের নাম রয়েছে। 

ওই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দেবাশুর গ্রামের তালিকায় তারা অর্ন্তভূক্ত হয়েছেন। তবে ডিলার বলছেন, এ অনিয়মের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বাররা দায়ী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, কাশিয়ানী উপজেলার পুইশুর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার জয়ন্ত মণ্ডল তার স্ত্রী মেরি রানী মণ্ডল, মা মঞ্জু রানী মণ্ডল ও ভাই পলাশ মণ্ডলের নামে কার্ড করে করেছেন। প্রতি মাসে তাদের কার্ডে ৩০ কেজি করে ৯০ কেজি চাল উত্তোলন করে আসছেন। এছাড়া অনেক আগে ওই গ্রামে বসবাসকারী সমাপ্তি মণ্ডল নামে এক বিধবা নারী, তার স্বামীর নাম ঈশান মণ্ডল দেখিয়ে আরও একটি কার্ড তৈরি করেন। সেই কার্ডের চাল জয়ন্ত মণ্ডল নিজে উত্তোলন করছেন। তবে ঈশান নামে বর্তমান ওই গ্রামে কোন বয়স্ক লোক না থাকলেও ডিলার জয়ন্ত মণ্ডলের ১০ বছরের ছেলের নাম ঈশান মণ্ডল। 

আরো পড়ুন : ত্রাণ চুরি-জালিয়াতি রোধে ‘সেন্ট্রাল সার্ভার সিস্টেম’ উদ্ভাবন

ডিলার জয়ন্ত মণ্ডল নিজের স্ত্রী, মা, ভাই ও এক বিধবা নারীর নামে কার্ড রয়েছে স্বীকার করে বলেন, ‘তালিকা চেয়ারম্যান-মেম্বাররা করেছেন। এর জন্য আমার কোন দায়বদ্ধতা নেই।’ তবে ওই নারীর স্বামীর নাম কেন ঈসান মণ্ডল কেন লেখা হয়েছে- জানতে চাইলে এ প্রশ্নের কোনও উত্তর দিতে পারেননি। তিনি প্রতি মাসে চারটি কার্ডের চাল উত্তোলন করেন বলেও স্বীকার করেন।

৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেবাশীষ মণ্ডল বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডের তালিকায় কোনও অনিয়ম নেই। আমি নিজে যাচাই-বাছাই করে পরিষদে এ তালিকা জমা দিয়েছি।’  

কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘ওই ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুলকে তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য বলেছি।’ 

ইত্তেফাক/ইউবি