ক্রমেই প্রকট হচ্ছে উপজেলার গবাদি পশুর খামারিদের সঙ্কট। হাট-বাজার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যান চলাচল বন্ধ থাকায় খামারিরা তাদের গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ, মুরগী, মুরগীর বাচ্চা বাজারজাত করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন। অপরদিকে গো-খাদ্য না পাওয়ায় এবং দাম অনেক বেশি হওয়ায় লোকসান গুনছেন ছোট-বড় খামারিরা। অনেকেই পুঁজি হারিয়েছেন।
জানা গেছে, জেলায় ছোট-বড় গাভীর খামার ১৬৩৮টি, হৃষ্টপুষ্ট খামার ৭০৬১টি, মহিষের খামার ৪২টি, ছাগলের খামার ১৫১৩টি ও ভেড়ার খামার রয়েছে ৫৮৭টি। জেলার অধিকাংশ খামারিরা ঋণ নিয়ে খামার প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই সব অধিকাংশ খামারে গরু, ছাগল, ভেড়া মোটা-তাজাকরণ করে নির্দিষ্ট সময় পর তা বাজারজাত করা হয়। এছাড়াও মুরগীর বাচ্চা উৎপাদনকারী খামারিরা লোকসানের মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছেন আগে বাচ্চাগুলো বিক্রি হতো ৪০-৫০ টাকায়। সেই বাচ্চা বর্তমানে ৬-১০ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে না। এজন্য খামারিরা বর্তমানে বাচ্চা উৎপাদন বন্ধ রেখেছেন। অপরদিকে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, মুরগি অর্ধেক দামেও কেউ কিনছেন না।
এদিকে সবকিছু বন্ধ থাকায় খামারিরা গো-খাদ্যের চরম সংকটে পড়েছেন। যেটুকু খাবার পাওয়া যাচ্ছে তার দামও দ্বিগুনের চেয়েও অনেক বেশি। খামারিদের দাবি, কৃষি খাতে সরকার যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন তা মাঠ পর্যায়ে তালিকা করে দ্রুত বিতরণ করা হোক। এছাড়াও গো-খাদ্য, ফিডসহ অন্য খাবার সামগ্রীগুলোর দাম কমাতে সরকারে বাজারে নজর দিক।
আরও পড়ুন: নিষেধাজ্ঞা শেষ, কাল থেকে পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ আহরণ শুরু
রাণীনগর উপজেলার পল্লীশ্রী সমন্বিত প্রদর্শনী খামারের জেনারেল ম্যানেজার মাহফুজুর রহমান (রনি) বলেন, গো-খাদ্যের সংকট, কম দামেও মুরগির বাচ্চা কেউ কিনছেন না। বর্তমানে খামারে গরু, ছাগল, ভেড়া বিক্রির উপযুক্ত হলেও বিক্রি করতে পারছি না। এতে করে গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া গো-খাদ্যের সরবরাহ বন্ধ থাকায় যে খাদ্য পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো আবার দ্বিগুণের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এতে করে লাভের চেয়ে লোকসান বেশি হচ্ছে। পশুগুলো বিক্রি করতে না পারায় খামারের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে পারছি না। এমতাবস্থায় সরকারের প্রণোদনা দ্রুত না পেলে খামারিরা বিপদে পড়বেন।
জেলা প্রশাসক মো: হারুন-অর-রশিদ বলেন মাঠ, পর্যায়ে ছোট-বড় খামারিদের তালিকা তৈরির কাজ চলমান। প্রণোদনার বরাদ্দ এলেই তা বিতরণ করা হবে।
নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইসরাফিল আলম বলেন, মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তালিকা করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া, বাজার সহজলভ্য করা এবং ঘোষনা করা প্রণোদনার সুবিধা দ্রুত না দিলে দেশে মাংসের সংকট সৃষ্টি হতে পারে। কৃষিখাতের মতো দেশের খামারি শিল্পকে টিকে রাখতে হলে এই খাতেও প্রণোদনার পরিমাণটা বৃদ্ধি করা উচিত।
জেলার ছোট-বড় খামারি ও খামার সংশ্লিষ্ট সকল খাতে সরকার যদি এখনই সুদৃষ্টি না দেয় ও সুষ্ঠু পদক্ষেপ গ্রহণ না করে তাহলে কয়েক হাজার খামার লোকসানের মুখে বন্ধ হয়ে যাবে; এমনটিই আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
ইত্তেফাক/এসি
