কেশবপুরে ব্রি হাইব্রিড ধান-৫ চাষে কৃষকের মুখে হাসি

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২০, ১৯:০২

কেশবপুরে উদ্ভাবিত ব্রি হাইব্রিড ধান-৫ চাষ করে সাফল্য পেয়েছে মঙ্গলকোটের কৃষক আহম্মেদ আলী। উপজেলা কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানের ওই কৃষক তার ৩২ শতক জমিতে বি হাইব্রিড ধান-৫ চাষ করে ৩৬ মন ধান পেয়েছেন। যা অন্যান্য জাতের ধান চাষের তুলনায় অনেক বেশী। 

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, কেশবপুর উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ উপজেলায় এবার ১৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। যা থেকে প্রায় ৭৫ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হবে। ইতিমধ্যে, ২৫ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছ। বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিলম্ব হলেও শ্রমিক সংকট না থাকায় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সকল ধান কাটা সম্পন্ন হবে। গত বছরের তুলনায় এবছর বেশি ফলন হয়েছে।  উপজেলায় ৩০ হাজার কৃষক রয়েছে। এরমধ্যে লটারির মাধ্যমে ১ হাজার ৯১৫ জন কৃষকের নিকট থেকে সরকারিভাবে ১ হাজার ৯১৫ টন ধান ক্রয় করা হবে। এ উপজেলা এ বছর ব্রি উদ্ভাবিত ব্রি ধান-২৮,৫০, ৬৩,৬৭,৮০,৮৪,৮৬ ও ৮৮ জাতের ধান চাষ হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের হাইব্রিড ধানের চাষও হয়েছ। তবে ব্রি উদ্ভাবিত হাইব্রিড ধান-৫ এর নতুন চাষ করা হয়েছে। কৃষি অফিসের মাধ্যমে ২ কেজি ব্রি ধান বীজ গাজীপুর থেকে সরবরাহ করা হয়েছিল। মঙ্গলকোট ইউনিয়নের বসুন্তিয়া গ্রামের কৃষক আহম্মেদ আলী এ ধান চাষ করে অন্য ধানের থেকে বাম্পার ফলন পেয়েছেন। তিনি ৩২ শতক জমিতে ব্রি হাইব্রিড-৫ জাতের ধান চাষ করে ৩৬ মন ধান পেয়েছেন। যেটা প্রতি হেক্টরে ১১  টন  উৎপাদন হবে। ধানের বাম্পার ফলন পেয়ে কৃষক আহম্মদ আলী ব্যাপক খুশি। বৃহস্পতিবার ওই কৃষকের ধান কাটা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা কৃষি অফিসার মহাদেব চন্দ্র সানা, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার ইমরান বিন ইসলাম, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার দীপ জয় বিশ্বাস ও মিলন দাসসহ এলাকার কৃষকরা। 

আরো পড়ুন: ৬ বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার, ধর্ষক গ্রেফতার

কৃষক আহম্মদ আলী জানান, তিনি ব্রি ধান-৮৪, ব্রি ধান-৫০ ও বি হাইব্রিড ধান-৫ চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে ব্রি হাইব্রিড ধান-৫ চাষ করে ৩২ শতক জমিতে ৩৬ মন ধান পেয়েছেন। ওই ধানের বাম্পার ফলন দেখে এলাকার কৃষকরা তার নিকট থেকে এই ধান চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। 

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, ‘কেশবপুরে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ধান কাটা শুরু হয়েছে। শ্রমিক সংকট না থাকায় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সকল ধান কাটা হয়ে যাবে। এ উপজেলায় এবার ব্রি হাইব্রিড ধান-৫ চাষ করা হয়েছে। এ ধান চাষে অন্য ধানের থেকে প্রায় ৬ টন ধান বেশি উৎপাদন হবে। যে কারণে ব্রি হাইব্রিড-৫ ধান চাষে বর্তমানে কৃষক ঝুঁকে পড়েছে। ইতিমধ্যে এ ধান চাষের জন্য কৃষি অফিসে যোগাযোগ করছেন। এবছর সরকারিভাবে লটারির মাধ্যমে কৃষকের কাছ থেকে ১ হাজার ৯১৫ টন ধান ক্রয় করা হবে।’

ইত্তেফাক/এএএম