রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজারে কিছুদিন আগেও প্রসাধনসামগ্রী বিক্রি করতেন সিরাজুল ইসলাম। করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে প্রসাধনের দোকানটি বন্ধ। তখন থেকেই সিরাজুল ব্যবসা বদল করে করোনা ভাইরাস সুরক্ষাসামগ্রী বিক্রি করে চলেছেন। আগের দোকানের সামনেই (সাহেববাজার ন্যাশনাল ব্যাংকের গলি) পুরির দোকানের পাশেই পারসোনাল প্রটেকশন ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই), মাস্ক, গাউন, হ্যান্ডগ্লাভস, স্যানিটাইজার, মাথায় পরার টুপি সবই বিক্রি করছেন তিনি। শুধু সিরাজুল নয়, তার মত অনেকেই এখন নগরীতে করোনা ভাইরাস সুরক্ষাসামগ্রী বিক্রিতে নেমেছেন।
নগরীর লক্ষীপুর মোড়স্থ বঙ্গবন্ধুর মূর্যালের সামনেই এক নারীসহ কয়েকজন বিক্রি করছেন সুরক্ষাসামগ্রী। কিন্তু ওইসব সামগ্রী সত্যিই সুরক্ষার যোগ্য কিনা? তার দেখার কেউ নেই। নেই মান নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থাও।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ব্যাপক মানুষের চাহিদার কারণে বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে পণ্যগুলো। এই সুযোগে অনেকে মানহীন সুরক্ষাসামগ্রীও বিক্রি করছেন। করোনায় ভীতসন্ত্রস্ত্র সাধারণ মানুষ মান বিবেচনা ছাড়াই হুজুকে কিনছে সেগুলোই। অধিকাংশ মানুষ পিপিই না পরলেও মাস্ক পরে প্রতিদিনের কাজ করছেন। মানুষের এই দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। এন-৯৫ নামের মাস্কের কথা বলে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে এফএফসি-১ এস মাস্ক। মাস্কগুলো এন-৯৫ না হলেও সেগুলোর গায়ে এন-৯৫ সিল লাগিয়ে দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। আবার সেগুলো যে ব্যবহৃত নয়, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।
আরও পড়ুন: মা বাজার করতে পাঠালো ছেলেকে, সে নিয়ে এলো বউ!
সরেজমিনে সাহেববাজার ও লক্ষীপুর ফুটপাতে মাত্র ২৫০ টাকায়ই পাওয়া যাচ্ছে পিপিই। ফুটপাতে এমনকি মাছ ও কাঁচাসবজির দোকানের পাশেই বিক্রি হচ্ছে ওইসব সামগ্রী। আবার সবজির ও মুদি দোকানেও বিক্রি হচ্ছে মাস্ক। বলা যায়, ফুটপাথ থেকে দোকান, সর্বত্র মানহীন পিপিই ও সুরক্ষাসামগ্রীতে বাজার সয়লাব। অন্য বাজার বন্ধ এবং কাঁচাবাজার খোলা থাকার সুযোগে সেখানেই পসরা মেলে বসেছেন-এটাই ছিল সিরাজুল ইসলামসহ কয়েকজনের সরল স্বীকারোক্তি। তারা বলেন, পেট বাঁচাতে ব্যবসা বদল করেছেন। তবে ওই পণ্যকে তারা ‘শতভাগ সার্জিক্যাল’ দাবি করেন। তাদের কেউ বাধাও দিচ্ছে না। তারা স্বাধীনমতো ব্যবসা করছেন। এ কাঁচাবাজারেই পাশপাপাশি সুরক্ষাসামগ্রীর চারটি দোকান দেখা যায়।
কয়েক ধরনের মাস্ক, গাউন, হ্যান্ডগ্লাভস, স্যানিটাইজার, মাথার টুপি, গাউনের প্যাকেটে রয়েছে জুতার ওপর দিয়ে পরার জিনিসও। বিভিন্ন ধরণের পিপিই মানভেদে ২৫০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আলাদা করে হ্যান্ডগ্লাভস বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস। মাথায় পরার টুপি ১০ টাকা ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ৪০ টাকা। ফুটপাতের ওই দোকানিরা খুচরা ও পাইকারী দুই ধরণের ক্রেতাদের কাছেই পণ্য বিক্রি করছেন।
পাশের আরেক দোকানী আব্দুল বারিক (৩৫) আগে চশমা ও বেল্ট বিক্রি করতেন। এখন ওই ব্যবসার দোকান খুলতে দেওয়া হচ্ছে না। তাই তিনিও সিরাজুল ইসলামের মতোই পেশা বদল করে পারসোনাল প্রটেকশন ইক্যুইপমেন্টের (পিপিই) ব্যবসা শুরু করেছেন।
এভাবে কাঁচাবাজারে-ফুটপাতে প্রকাশ্যে পিপিই ও সুরক্ষাসামগ্রী বিক্রির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্র নাথ আচার্য বলেন, এ সময় সব ব্যাপারে মাথা ঘামাতে গেলে তো মাথাই নষ্ট হয়ে যাবে। তারা সরকারি পিপিই কোথা থেকে চুরি করে এনে বিক্রি করছেন না, স্থানীয়ভাবে তৈরি করে বিক্রি করছেন সেটা আইনশঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে- তারা দেখবেন। তবে স্থানীয়ভাবে কেউ তৈরি করে বিক্রি করলে তো খারাপ নয়। মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। আর মান সম্মত কিনা? তা মান নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ দেখবেন।
ইত্তেফাক/এসি
