রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু হেনা ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। রবিবার দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বলেন, বাগমারার সাধারণ জনগণ এবং ২০ দলীয় জোট, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিরাপত্তার খাতিরে তিনি ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করি এতে এনামুল হকের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীর সকল সহিংসতা বন্ধ হবে এবং বাগমারায় শান্তি ফিরে আসবে। আমি আমার নেতাকর্মীদেরকে ভোট কেন্দ্র থেকে নিরাপদ ঘরে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। সেই সঙ্গে জেলা প্রশাসক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা সমূহকে বাগমারার জনগণের জানমাল রক্ষা করার জন্য অনুরোধ করছি। আমার এ সিদ্ধান্তের সঙে বাগমারার জনগণ এবং ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের ঐক্যমত রয়েছে।’
আবু হেনার দাবি, ‘গত রাতের প্রথম প্রহর থেকেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী এনামুল হকের ক্যাডাররা পুলিশের সহায়তায় ভোট কেন্দ্র দখল করে। সকালে ভোট গ্রহণের আগে থেকেই বিএনপির পোলিং এজেন্টদের ওপর আক্রমণ শুরু হয়। প্রায় কেন্দ্রেই এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। যারা ঢুকেছিল তাদেরকেও অস্ত্র দেখিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে। অনেক কেন্দ্রে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ চালানো হয়েছে। এতে অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন। সকাল থেকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার, নির্বাচন বিষয়ে দায়িত্ব প্রাপ্ত জেলা সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা, র্যাব অধিনায়ক বরাবর অভিযোগ প্রেরণ করা হলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায় নাই। উপজেলা কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানোর কথা বলেন, কিন্তু কোথাও কোন ম্যাজিস্ট্রেটের দেখা পাওয়া যায় নাই।’
আরো পড়ুন: এজেন্টদের বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটলে তার তদন্ত হওয়া উচিত: বি চৌধুরী
উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য তিনি বাগমারা থানার ওসি নাসিম আহমেদ এবং পুঠিয়া সার্কেলের এএসপি সুমন দেবকে দায়ী করেন। এসময় বাগমারা উপজেলা চেয়ারম্যান ডিএম জিয়াউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, আবু হেনা এ আসনের দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য। তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সংস্কারপন্থী হওয়ায় বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। সম্প্রতি তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ও দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
