মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে আজ (১ মে) শুক্রবারও ঢাকামুখী গার্মেন্টস শ্রমিকদের ঢল অব্যাহত ছিল। ঢাকার কর্মস্থলে যেতে শিমুলিয়া ঘাটে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন শ্রমিকরা।
শুক্রবার পর্যন্ত টানা চার দিন ধরে দক্ষিণবঙ্গের কাঁঠালবাড়িঘাট থেকে ফেরি ও ট্রলারে করে শত শত শ্রমিক পদ্মা পাড়ি দিয়ে আসছেই মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়াঘাটে। করোনা ঝুঁকির মধ্যে ফেরি ও ট্রলারে গাদাগাদি করে ঢাকামুখী শ্রমিকরা ছুটে আসছেন। শিমুলিয়া ঘাটে এসে যানবাহনের অভাবে পড়তে হচ্ছে আরেক ঝামেলায়। তার উপর আবার বৃষ্টি যেনো আরও বিপাকে ফেলছে যাত্রীদের।
মাওয়া নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম জানান, দক্ষিণবঙ্গের কাঁঠালবাড়িঘাট থেকে ফেরি ও ট্রলারে করে সকাল থেকেই শিমুলিয়াঘাটে আসতে শুরু করে শত শত শ্রমিক। ফেরিগুলোতে গাদাগাদি করে যাত্রীদের আসার চিত্র দেখা যায়। এদের বেশির ভাগই ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গার্মেন্টসের কর্মী।
আরও পড়ুনঃ ভারতে একদিনে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড
তিনি আরও জানান, ফেরি ও ট্রলারে গাদাগাদি করে শ্রমিকরা ছুটে আসার কারণে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। তবু তাদের ঢাকায় ছুটে চলায় থামানো যাচ্ছে না। সামাজিক দূরত্ব না মেনেই ফেরি ও ট্রলারে ছুটে আসছেন গার্মেন্টস কর্মীরা।
বিআইডাব্লিউটিসি শিমুলিয়াঘাটের উপ-মহাব্যবস্থাপক মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, সীমিত আকারে এ নৌরুটে ফেরী চলছে। জরুরী সেবার যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যাত্রী সাধারণ ফেরিতে পারাপার হচ্ছে। এদের বেশির ভাগই গার্মেন্টস কর্মী। তবে গেল কয়েক দিনের তুলনায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কম সংখ্যক যাত্রী পারাপার হতে দেখা গেছে।
এদিকে, শিমুলিয়াঘাটে আসার পর শ্রমিকরা বাস না পেয়ে অটোরিকশা, রিকশা কিংবা সিএনজিতে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছে। শ্রমিকদের কথা হচ্ছে, কষ্ট যতই হোক, আগে চাকরি বাঁচাতে হবে। তাই ছোট ছোট যানবাহনে চড়ে সড়কে ভেঙ্গে ভেঙ্গে ঢাকায় ছুটছেন তারা। আবার যানবাহনের অভাবে কেউ কেউ পায়ে হেটেই ছুটে যাচ্ছেন ঢাকায়। এতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের কবলে পড়েছেন গার্মেন্টস কর্মীরা।
ইত্তেফাক/এমএএম
