বাস ছাড়া চলছে সব যানবাহন
মুজিবুর রহমান, গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরে সড়ক-মহাসড়কগুলোতে যাত্রীবাহী গণপরিবহন ছাড়া চলছে সব ধরনের যানবাহন। মহানগরসহ জেলার প্রায় সব হাট-বাজারে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখেই চলছে বেচাকেনা। জেলায় লকডাউন কার্যত ভেঙে পড়েছে। জেলা, মহানগর ও উপজেলা শহরের বড়ো বড়ো মার্কেট বন্ধ থাকলেও দুপুর পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকানপাট খোলা থাকছে। আর এসব দোকানে মানুষজন হুমড়ি খেয়ে পড়ছে প্রতিদিন। মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্বের বালাই। এছাড়া কেবলমাত্র গণপরিবহন ছাড়া ব্যক্তিগত যানবাহন, ইজিবাইক, সিএনজি অটোরিকশাসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল করছে কোনো বাধা ছাড়াই। পোশাক কারখানা খোলা থাকায় রাস্তাঘাটে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দেখা যায় মানুষ আর মানুষ।
শনিবার গাজীপুরের ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কেউই লকডাউন মানছেন না। লকডাউন অমান্য করে সারাদিনই খোলা থাকছে সব ধরনের দোকানপাট। আর এসব দোকানে ভিড় করছেন হাজার হাজার ক্রেতা-বিক্রেতা।
গত ২৬ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত গাজীপুরে প্রায় ৮০০ পোশাক কারখানা খোলা হয়েছে। এতে বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন লকডাউন অমান্য করে গাজীপুরে প্রবেশ করেছে। এসময় কোথাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এসব লোকদের গাজীপুরে প্রবেশে বাধা প্রদান করতে দেখা যায়নি। নির্বিগ্নে শ্রমিকরা রংপুর, রাজশাহী, নাটোর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, পাবনাসহ উত্তরাঞ্চলের প্রায় সব জেলা থেকে বিনা বাধায় গাজীপুরে প্রবেশ করেছে। একমাত্র যাত্রীবাহী বাস ও ট্রেন ছাড়া জেলায় সব ধরনের যানবাহনই বাধাহীনভাবে চলাচল করেছে প্রতিদিন।
২৬ মার্চ থেকে সারাদেশে গণপরিবহন বন্ধ ঘোষাণ করা হলেও বিকল্পভাবে গাজীপুরের লাখ লাখ শ্রমিক তাদের গ্রামের বাড়িতে চলে যায়। ২৬ এপ্রিল পোশাক কারখানা খোলার খবরে সব শ্রমিক ফের গাজীপুরে ফিরে আসে। শুক্রবারও শ্রমিকদের এ স্রোত গাজীপুরে আসতে দেখা গেছে। লকডাউনের মধ্যে শ্রমিকদের গ্রামের বাড়িতে যাওয়া এবং ফিরে আসাকে অনেকে করোনা ভাইরাসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম জানান, লকডাউন বলবত্ আছে। ২৬ এপ্রিল থেকে পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক কারখানায় যাতায়াত করছে। তাদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে বলা হয়েছে। কারখানাগুলোকেও শ্রমিকদের জন্য নিরাত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন, পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যগণ কাজ করে যাচ্ছেন।
