ফোর্বস ম্যাগাজিনের ২০১৯ সালের ‘৩০ আন্ডার ৩০ এশিয়া’র তালিকায় বিজ্ঞান গবেষণায় সেরা হিসেবে স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশি বায়োলজিস্ট জিএম মাহমুদ আরিফ পাভেল। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এই তালিকা করা হয়। শক্তি বা এনার্জি ক্যাটাগরিতে স্থান পেয়েছেন সানি সানওয়ার
জিএম মাহমুদ আরিফ পাভেল
মানব শরীরের আয়ন চ্যানেল নিয়ে গবেষণা করছেন জিএম মাহমুদ আরিফ পাভেল। এই চ্যানেলকে ‘ফান্ডামেন্টাল সেন্সরস অব লাইফ’ অভিহিত করে তা অ্যানেসথেসিয়াসহ অটোসমাল পলিসিসটিক কিডনি রোগের চিকিত্সায় নবদিগন্তের সূচনা ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন পাভেল।
ফোর্বস ম্যাগাজিনের সেরাদের তালিকায় স্থান পাওয়া ২৯ বছর বয়সী পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জিনবিজ্ঞানে স্নাতক করার পর বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে যান। নিউইয়র্কের সেন্ট জন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পাভেল এখন যুক্তরাষ্ট্রের স্ক্রিপস রিসার্চে পোস্ট ডক্টরাল সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন।
পাভেল বলেন, ‘বংশগত কিডনি রোগের তেমন কোনো চিকিত্সা নেই। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, মানবদেহের আয়ন চ্যানেলের বৈশিষ্ট্যে যদি সঠিকভাবে পরিবর্তন আনা যায়, তবে এ রকম কিডনি রোগের চিকিত্সায় সুফল পাওয়া যেতে পারে। এই আয়ন চ্যানেলকে ‘জীবনের মৌলিক সেন্সর’ বলা যায়।’
পাভেলের গবেষণা কিডনি রোগ ও অস্ত্রোপচারের সময় অবেদন প্রক্রিয়াকে আরও নিরাপদ করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সানি সানওয়ার
২৮ বছর বয়সী সানি সানওয়ার লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি প্যাক তৈরি করে সেটি বাণিজ্যিকভাবে সরবরাহ করেন তার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভার্ড টু গোর মাধ্যমে। কার্বন নিঃসরণ না করে বড় আকারের বিদ্যুেকন্দ্র তৈরি করা যায় সানির এই উদ্ভাবনী প্রকল্প থেকে। ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কেনেডি-লুগার এক্সচেঞ্জ স্টুডেন্ট কর্মসূচির মাধ্যমে সানি সানওয়ার যখন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস সিটিতে যান তখন তার বয়স ছিল ১৫। মাত্র ১৯ বছর বয়সে যন্ত্র প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন সানি। ২২ বছর বয়সে তিনি লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি প্যাক তৈরি করেন। দ্রুতই এই ব্যাটারি প্যাকের বিদ্যুত্ উত্পাদন ১ কিলোওয়াট থেকে ১ মেগাওয়াটে উন্নীত করেন। ২০১৬ সালে ২০ লাখ মার্কিন ডলারে সানির এই ব্যাটারি উদ্যোগ কিনে নেয় এভারগোনিক্স।
নিজের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে রাজশাহীর ছেলে সানি বলেন, ‘ভার্ড টু গোর মূল লক্ষ্যই হলো কার্বন নিঃসরণকারী বিদ্যুত্ শক্তির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার প্রতিষ্ঠা করা। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু শহরে লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি দিয়ে বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হচ্ছে। ঢাকায় নবায়নযোগ্য বিদ্যুত্ নিয়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনাও শুরু করেছি।’
