প্রথমবারের মতো ভাসানচরে পাঠানো হলো রোহিঙ্গাদের

আপডেট : ০৩ মে ২০২০, ২২:৪৩

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিভিন্ন সংস্থার অনুরোধের মুখে সাগর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২৯ জন রোহিঙ্গার একটি দলকে। উদ্ধারের পর তাদের নোয়াখালীর ভাসানচরে পাঠানো হয়েছে। ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের পাঠানোর ঘটনা এটিই প্রথম।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল খায়ের গণমাধ্যমকে বলেছেন, শনিবার রাত ২টা ৩৫ মিনিটে রোহিঙ্গাদের ঐ দল ভাসানচরে পৌঁছায়। এসব রোহিঙ্গা সাগরে নৌকায় ভাসমান অবস্থায় ছিল।

জানা গেছে, এই ২৯ জন রোহিঙ্গাকে কক্সবাজার উপকূল থেকে কোস্টগার্ড উদ্ধার করে। বর্তমানে বিশ্বে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো এই করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বড়ো ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই এসব রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারের কোনো ক্যাম্পে এখনই রাখা সম্ভব নয়। এর জন্য তাদের ভাসানচরে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। কোয়ারেন্টাইনের সময়সীমা শেষ হলে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের স্থানান্তর করা হবে।

নতুন উদ্ধার হওয়া ২৯ রোহিঙ্গার মধ্যে ১৯ জন নারী, ৫ জন পুরুষ ও ৫ জন শিশু। উদ্ধারের পর তাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে কিছুসংখ্যককে ভাসানচরে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল সরকারের। ঐ পরিকল্পনা অনুযায়ী ভাসানচর বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সাইক্লোন শেল্টারসহ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ করা হয়।

কিন্তু রোহিঙ্গারা সেখানে যেতে রাজি হয়নি। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের পাঠানোর আগে কারিগরি মূল্যায়নসহ রোহিঙ্গাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়। এ কারণে সরকারের সব রকম প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পাঠানো সম্ভব হয়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের দেখাশোনার দায়িত্ব বাংলাদেশের। সেখানে জাতিসংঘ কাজ করছে না।