নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দুই মাস পর ফটোসাংবাদিক ও দৈনিক পক্ষকাল সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজলকে বেনাপোল থেকে শনিবার গভীর রাতে উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। গতকালই আদালতে হাজির করা হলে তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। যশোর কোতোয়ালি পুলিশের ৫৪ ধারায় করা আবেদনে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মঞ্জুরুল ইসলাম গতকাল তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে করা বিজিবির মামলায় তাকে জামিন দেয় আদালত। সাধারণত অনুপ্রবেশের মামলার সঙ্গে আদালতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিটও দাখিল করা হয়। এক্ষেত্রে পুলিশ অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করলেও চার্জশিট দাখিল করেনি। ফলে জামিন পেলেও মুক্তি পাননি কাজল। আদালত জামিন দেওয়ার পর ১১ (সি) ধারার সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা জরিমানায় আদালত থেকে অনুপ্রবেশকারীরা মুক্তি পেয়ে থাকেন। এখন বেনাপোল পুলিশ চার্জশিট দাখিল করলে তিনি মুক্তি পাবেন।
এদিকে যশোরের কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাবন্দি রাখার আবেদন করে। আবেদনে কোতোয়ালি থানা পুলিশ বলেছে, তারা জানতে পেরেছে কাজলের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় বিভিন্ন ধরনের মামলা রয়েছে। ফলে তাকে যেন কারাগারে বন্দি রাখা হয়।
শনিবার রাতে বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুরের একটি মাঠের মধ্য থেকে শফিকুল ইসলাম কাজলকে উদ্ধার করে যশোর ৪৯ বিজিবির রঘুনাথপুর ক্যাম্পের টহল দল। অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা দিয়ে তাকে গভীর রাতে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করে বিজিবি। রঘুনাথপুর বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার হাবিলদার আশেক আলী বলেন, রাতে বিজিবির টহল দলের সদস্যরা কাজলকে সাদিপুর সীমান্তের একটি মাঠের মধ্য থেকে উদ্ধার করেন। অবৈধভাবে ভারত থেকে আসার সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
রবিবার দুপুরে পোর্ট থানা পুলিশ হ্যান্ডকাপ পরিয়ে বিশেষ নিরাপত্তা দিয়ে তাকে যশোরে নিয়ে আসে। বেনাপোল থেকে এনে তাকে যশোর ডিএসবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানিয়েছেন যশোর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) তৌহিদুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের পরপরই তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অনুপ্রবেশের মামলা ছাড়াও ঢাকায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। এই কারণে পুলিশ তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়েছে।
যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার ওয়েস্টিন হোটেলকেন্দ্রিক কারবারে জড়িতদের নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণে মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে, তাতে আসামির তালিকায় শফিকুল ইসলাম কাজলের নামও রয়েছে। মাগুরা-১ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর গত ৯ মার্চ শেরেবাংলানগর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি করেন।
শফিকুল ইসলাম কাজল গত ১০ মার্চ সন্ধ্যায় দৈনিক পক্ষকাল অফিস থেকে বের হন। এরপর থেকে তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
