তিন বছরেও একটি পিসিআর মেশিন চালু করতে পারেনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল। তবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) একমাস পাঁচদিনে একটি পিসিআর মেশিনে ডাবল শিফট চালু করেছে। ফলে জনগণের চিকিৎসাসেবায় রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও কলেজের কর্মতৎপরতা প্রশংসা কুড়িয়েছে।
রামেক অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী জানান, কলেজের ভাইরোলজি বিভাগে একসপ্তাহের প্রস্তুতিতে স্থাপিত পিসিআর ল্যাবে গত পহেলা এপ্রিল করোনার নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়। শুরুতে বিভাগের ৮টি জেলার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছিল। বগুড়ায় ল্যাব স্থাপনের পর রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নমুনা রামেক ল্যাবে আসছে। কিন্তু ৯৪টি পরীক্ষার সক্ষমতা থাকায় অতিরিক্ত নমুনা ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছিল। ঢাকা থেকে রিপোর্ট পেতে বিলম্ব এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা করতে না পারায় নমুনার গুণাগুণ নষ্টের কারণে ফলাফল বাতিল হচ্ছিল।
রামেক উপাধ্যক্ষ ডা. বুলবুল হাসান জানান, নমুনা জট কমাতে রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার অনুরোধে রামেক ল্যাবে ৩ মে ডাবল শিফট চালু করা হয়েছে। এখন রামেক ল্যাবে ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষা করা যাচ্ছে। রবিবার প্রথম শিফটে ৯৪টি নমুনার মধ্যে ৭৪টির ফলাফল এসেছে। ২০টি বাতিল হয়েছে। দ্বিতীয় শিফটের ৯৪টি নমুনার ৭২টির ফলাফল এসেছে। বাতিল হয়েছে ২২টি। এছাড়া বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও জয়পুরহাট জেলার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
নমুনা সংগ্রহ করছে ফ্যামিলি প্লানিংয়ের কর্মীরা।
এদিকে রাজশাহীতে অদক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীরা সঠিক নিয়মে নমুনা সংগ্রহ না করায় ফলাফল বাতিল হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ল্যাব সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনা শনাক্তে মুখগহ্বর ও নাকের ভেতর থেকে নমুনা নেয়ার কথা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তা করা হচ্ছে না। সঠিক নিয়মে নমুনা সংগ্রহ নিশ্চিত না হলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে বলেও জানান তারা।
রামেক উপাধ্যক্ষ ডা. বুলবুল হাসান জানান, পরীক্ষার ফলাফল নির্ভর করে নমুনা সংগ্রহের নির্ভুলতার ওপরে।
সঠিকভাবে নমুনা সংগ্রহ ও সংরক্ষিত না করা হলে বিপদ বাড়বে। রামেক ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাবেরা গুলনাহার জানান, সংক্রমণের ব্যাপকতার সময় শতভাগ দক্ষ জনবল ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। উপজেলা পর্যায়ে নমুনা সংগ্রহকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে অনলাইনে। এছাড়া ল্যাবে আসা নমুনা পরীক্ষায় ১২জন টেকনোলজিস্টের প্রয়োজন হলেও রয়েছে মাত্র একজন।
প্রসঙ্গত, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে তিনবছর ধরে একটি পিসিআর মেশিন বাক্সবন্দি রয়েছে। ওই মেশিনটি চালু করে দ্বিতীয় ল্যাব চালুর কথা গত একমাস আগে বলা হলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি।
ইত্তেফাক/আরকেজি
