গাজীপুরে শিশু অপহরণ ও হত্যা মামলার আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

আপডেট : ০৪ মে ২০২০, ১৩:২৭

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী পারিজাত এলাকায় শিশু আলিফ হোসেন (৫)কে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি জুয়েল আহমেদ ওরফে সবুজ (২২) রবিবার রাতে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে।

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়। সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গুলি বিনিময়কালে ২ জন র‌্যাব সদস্য আহত হয়ছেন। নিহত জুয়েলের বাড়ি নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার পদিপাড়া গ্রামে। তার পিতার নাম রফিক উল্লাহ।

র‌্যাব-১ এর গাজীপুরের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, জুয়েল আহমেদ ওরফে সবুজকে নিয়ে কোনাবাড়ি এলাকায় অভিযানে গেলে পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা সন্ত্রাসীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় র‌্যাব পাল্টা গুলি ছুড়লে শিশু আলিফ অপহরণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সন্ত্রাসী জুয়েল নিহত হয়। এ সময় র‌্যাবের দুজন সদস্য আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই গুলি উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকা থেকে অপহরণের ৫ দিন পর নিজ বাড়ির গোডাউন থেকে শনিবার রাতে অর্ধগলিত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা। এঘটনায় জড়িত সন্দেহে সাগর নামে একজনকে আটক করা হয়। নিহত আলিফ হোসেন (৬) ওই এলাকার ঝুট ব্যবসায়ী মো. ফরহাদের ছেলে। পরে অপহরণকারীরা শিশু আলিফের বাবার কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা নিতে অপহরণকারীরা আলিফের বাবা ফরহাদ হোসেনকে টঙ্গীসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরিয়ে পুবাইল এলাকায় আসে। সেখানে পূর্ব থেক উৎপেতে ছিলেন র‌্যাব সদস্যরা। পরে পূবাইল থেকে সাগর নামে একজনকে আটক করা হয়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ফরহাদের চার তলা বাড়ির তিন তলার ঝুটের গোডাউন থেকে শিশু আলিফের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাগরসহ কয়েকজন ফরহাদের বাড়ির তিন তলাতে ঝুটের গোডাউনের পাশের ইউনিটে ভাড়া থাকতো। আর দুতলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন বাড়ির মালিক ফরহাদ।

তার বাড়ির ছাদে উঠে নারীদের উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় বাড়িওয়ালা ফরহাদ সাগরকে চড়-থাপ্পড় মেরেছিল। রাগের বশবর্তী হয়ে তারা ফরহাদের ছেলেকে অপহরণ করেছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে সাগর।

ইত্তেফাক/এমআরএম