পিরোজপুর অফিস ও শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
করোনা সংক্রমণ ঝুঁকির কারণে বেকার হয়ে পড়েছে দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার জেলে ও মত্স্যজীবী। সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না জেলেরা। এর ওপরে নতুন করে বনদস্যু আতঙ্ক ভর করেছে তাদের ওপর। অপর দিকে, লকডাউনের ফলে মোকামে মহাজনদের কাছে আটকে রয়েছে জেলে মত্স্য ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকা।
পাথরঘাটার মত্স্যজীবী মিজানুর রহমান পিন্টু জানান, করোনার কারণে পাথরঘাটা, পাড়েরহাট, কলাপাড়া, শরণখোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক হাজার জেলে বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। কিছু জেলেরা মাছ ধরলেও লকডাউনে মাছ পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় তা বিক্রি করতে পারছেন না।
বাংলাদেশ ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এম সাইফুল ইসলাম খোকন জানান, করোনার কারণে ফিশিং বোটসমূহ সাগরে যেতে না পারায় বোটমালিক ও কয়েক হাজার জেলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তার ওপর ২০ মে থেকে সাগরে মাছ ধরায় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় জেলেদের কাছে তা দুঃসংবাদ হয়ে দেখা দিয়েছে।
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীর বালিপাড়ার মত্স্য ব্যবসায়ী দুলাল ফকির বলেন, কিছু কিছু জেলে গভীর সমুদ্রে যাচ্ছেন, কিন্তু পাড়েরহাটসহ বিভিন্ন মোকামে সিন্ডিকেটের কারণে মাছের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। জেলেদের জন্য সরকার যে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে তা অপ্রতুল। দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, দুবলারচর অঞ্চলের ৭/৮ হাজার জেলের মাছ বিক্রি করা কয়েক কোটি টাকা ঢাকা ও চট্টগ্রামের মোকাম ও কোম্পানিতে বকেয়া পড়ে থাকায় জেলেদের এখন না খেয়ে থাকার উপক্রম হয়েছে। করোনার অজুহাতে কোম্পানি মালিকরা টাকা দিচ্ছেন না।
শরণখোলা উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় বলেন, করোনার কারণে শরণখোলার সাত সহস্রাধিক জেলে বেকার হয়ে পড়েছেন, তারা নদী সাগরেও যাচ্ছেন না।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের ডিএফও বেলায়েত হোসেন বলেন, জেলেদের জীবিকার কথা চিন্তা করে বন বিভাগ সুন্দরবনে মাছ ধরার পাশ পারমিট চালু রেখেছেন।
