করোনায় শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি

আপডেট : ০৪ মে ২০২০, ২২:১৪

করোনা ভাইরাস জনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন মওকুফে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

শিক্ষা সচিব বরাবর দেওয়া ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছে অনেক চাকরিজীবী। এমতাবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তানদের মাসিক বেতন পরিশোধে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিম্নবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষদের জীবিকা নির্বাহ করাটা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাই সকল সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিকট হতে আদায়যোগ্য মাসিক বেতনের অর্ধেক মওকুফে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষা সচিব এবং সরকারি কর্মকর্তাদের অনুরোধ করছি। 

বেসরকারি সংগঠন 'ল এন্ড লাইফ ফাউন্ডেশন' এর পক্ষে ব্যারিস্টার মো. হুমায়ন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউসার আজ সোমবার এই চিঠি দেন।

শিক্ষা সচিব বরাবর দেওয়া ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, আপনি নিশ্চয়ই অবগত যে, বর্তমান সময়ে করোনা একটি আতঙ্কের নাম এবং সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও এই করোনা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়ানক এবং দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় পতিত হয়েছে। দেশে সাধারণ ছুটি চলছে। দীর্ঘদিন যাবৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। প্রশ্ন উঠেছে যেহেতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে পারছে না এবং শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে না বা সেবা পাচ্ছে না এমতাবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে মাসিক টিউশন ফি আদায় করতে পারে কিনা।

ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাসিক বেতন পুরোপুরি বা আংশিক মওকুফ করেছে। যেটা অত্যন্ত সময়োপযোগী, যুক্তিসঙ্গত এবং মানবিক। কিন্তু আমাদের দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে চাপ দিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে টিউশন ফি আদায় করছে। আদায় করতে না পারলে আগামী পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত বা স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হবে এমন নোটিশও দেওয়াা হচ্ছে। এমতাবস্থায় আমরা মনে করি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য জনস্বার্থে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান সরকারকে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। যাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলমান থাকে এবং সেইসাথে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও কিছুটা আর্থিক ভাবে স্বস্তি বোধ করেন।

চিঠির একটি অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব।

ইত্তেফাক/এমআর