সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হতে পারে ১০ লাখ বাংলাদেশি কর্মীকে

আপডেট : ০৪ মে ২০২০, ২২:২৮

নতুন করোনা ভাইরাস মহামারি রূপ নেওয়ায় বড়ো অর্থনৈতিক মন্দার মুখোমুখি বিশ্ব। প্রায় প্রতিটি দেশেই কর্মসংস্থান সংকুচিত হচ্ছে। এ কারণে চাপের মুখে পড়েছেন বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীরাও। বিশেষ করে ঝুঁকির মুখে পড়েছেন সৌদিতে কর্মরত বাংলাদেশিরা। দেশটির অর্থনীতিতে করোনার নেতিবাচক প্রভাব, তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়া ও সৌদিকরণ নীতির কারণে আগামী কয়েক বছরে ১০ লাখ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাতে পারে দেশটি। রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস সম্প্রতি এক চিঠিতে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই শঙ্কার কথা জানিয়েছে।

সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড়ো শ্রমবাজার। দেশটিতে ২২ থেকে ২৫ লাখ বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় কর্মরত আছেন। যাদের ৮৫ ভাগই বৈধ। দূতাবাসের চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে নিজ নাগরিকদের মাধ্যমে ৭০ শতাংশ বিদেশি কর্মীর জায়গা পূরণ বা সৌদিকরণের নীতি রয়েছে দেশটির সরকারের। এ কারণে অনেক বাংলাদেশি শ্রমিক চাকরি হারাতে পারেন। সৌদিকরণের এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত না হলে (চূড়ান্ত পর্যায়ে) ন্যূনতম কী পরিমাণ বাংলাদেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন? তার অনুমাননির্ভর তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ বাংলাদেশি কর্মী সৌদি আরবে চাকরি হারাতে পারেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্ভাব্য বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধানে আফ্রিকার দেশগুলোতে তত্পরতা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, আফ্রিকার দেশগুলোতে কৃষি, একুয়াকালচার, প্রাণিসম্পদ ও বিভিন্ন কারখানায় প্রায় ৪০ লাখ বাংলাদেশিকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হতে পারে।

ঐ চিঠিতে বলা হয়েছে যে, সৌদি সরকার গৃহীত ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া গত সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। করোনার কারণে এটি থমকে গেছে। তবে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর এটি আবারও শুরু হবে এতে কোনো সংশয় নেই। আর আগামী তিন-পাঁচ বছরের মধ্যে ভিশন ২০৩০-এর উল্লেখযোগ্য অংশের বাস্তবায়ন হবে। ঐ সময়ে সৌদিতে থাকা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শ্রমিকদের মতো বাংলাদেশিরাও চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন।

অভিবাসন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশটিতে থাকা ৩ লাখের মতো আন-ডকুমেন্টেড বা অনিয়মিত বাংলাদেশি রয়েছেন। করোনার দুর্যোগে তারা বড়ো বিপদের মুখে রয়েছেন। তাদের বেশির ভাগেরই কাজ নেই। তারা সবার আগেই বিতাড়িত হতে পারেন। এ অবস্থায় সরকারকে অবিলম্বে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু করা উচিত।

এদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের নিয়মিত ফ্লাইট যোগাযাগ বন্ধ থাকায় বিশেষ ফ্লাইটে কারাগার বা ডিটেনশন সেন্টার থেকে মুক্ত বাংলাদেশিদের ফেরানো হচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েক শ ফিরেছেন। আরো চার শতাধিক এখন বিমানে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছেন।