তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
এনামুল ইসলাম মাসুদ,সিনিয়র শিক্ষক
শের-ই-বাংলা স্কুল এন্ড কলেজ,মগবাজার, ঢাকা।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নিরাপদ ও নৈতিক ব্যবহার
১। ‘সাইবার অপরাধ একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ’-ব্যাখ্যা কর।
উত্তর:তথ্য প্রযুক্তির বিকাশের ফলে আমাদের সামনে যেমন নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি এটিকে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজেও ব্যবহার করা হচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনলাইনে যেসব অপরাধ করা হয় সেগুলোকে সাইবার অপরাধ বলে। সাইবার অপরাধীরা সাইবারঅপরাধ করার জন্য নতুন নতুন পথ আবিষ্কার কওে যাচ্ছে। কিছু পরিচিত সাইবার হলো- স্প্যাম, প্রতারণা, আপত্তিকর তথ্য প্রকাশ, হুমকি প্রদর্শন, সাইবার যুদ্ধ ইত্যাদি। এধরণে রঅপরাধগুলো অবশ্যই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ভুল তথ্য বা ভুল পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ করা এবং তাদেরকে নানাভাবে প্রতারিত করার চেষ্টা করা, আপত্তিকর ও উদ্দেশ্যমূলক ই-মেইলের মাধ্যমে কাউকে জ্বালাতন করা বা ক্ষতি করার চেষ্টা করা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। আর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অবশ্যই শাস্তিযোগ্য। তাই বলাযায়, সাইবার অপরাধ একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
২। Captcha কী? পাসওয়ার্ডের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য কী করা উচিত?
উত্তর: যে কোন নেটওয়ার্কের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজন নিরাপত্তাবা নেটওয়ার্কে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করা। একটি নেটওয়ার্কে প্রবেশকারী মানুষ বা যন্ত্রকে আলাদা করার যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় তাকে Captcha বলে। কোন নেটওয়ার্কে প্রবেশ করতে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার পরেও একটি বিশেষ লেখা টাইপ করতে হয়, যে লেখাগুলো শুধুমাত্র মানুষই বুঝতে পারবে কিন্তু কোনযন্ত্র বুঝতে পারে না। এই বিশেষ লেখাগুলোকে Captcha বলে। নেটওয়ার্কেও সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়।
পাসওয়ার্ডের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য করণীয়:
পাসওয়ার্ডের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য আমরা নিম্নোক্ত কাজগুলো করবো-
সংক্ষিপ্ত পাসওয়ার্ডেও পরিবর্তে দীর্ঘ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবো।
কেবল ছোট বা বড়হাতের অক্ষর ব্যবহার না করে ছোট ও বড়হাতের অক্ষর মিশিয়ে ব্যবহার করবো।
শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বর্ণ, সংখ্যা ও প্রতীক সমন্বিতভাবে ব্যবহার করতে হবে।
নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
অনলাইনে পাসওয়ার্ডের শক্তিমত্তা যাচাই করে পাসওয়ার্ডের শক্তিমত্তা বাড়াতে হবে।
৩। কম্পিউটার ভাইরাস কী? এর প্রকারভেদ বর্ণনা কর।
উত্তর:কম্পিউটার ভাইরাস হলো একধরনের ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম, যা কম্পিউটারে ব্যবহূত কোন কার্যকরি ফাইলের সাথে যুক্ত হয়। যখন ঐ ফাইলটি ওপেন করা হয়, তখন ভাইরাসটি অন্যান্য কার্যকরি ফাইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংক্রমিত হয় এবং নিজের সংখ্যাবৃদ্ধি করে। VIRUS অর্থ Vital Information and Resources Under Siege. অর্থাত্ গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী দখল করে নেয়া। এক শ্রেণির অসত্মানুষ কম্পিউটার ভাইরাস তৈরি করে। সিআইএইচ, এলক ক্লোনার, ভিয়েনা, নিমডা, পিংপংইত্যাদি কম্পিউটার ভাইরাসের উদাহরণ।
কম্পিউটারভাইরাস দুইপ্রকার। যথা-
১.নিবাসীভাইরাস
২.অনিবাসীভাইরাস
নিবাসীভাইরাস: যে কম্পিউটার ভাইরাসগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠার পর মেমোরীতে স্থায়ীভাবে অবস্থান নেয় এবং যখনই অন্য কোন প্রোগ্রাম চালু করা হয়, তখনই সে ঐ পোগ্রামকে সংক্রমিত করে।
অনিবাসীভাইরাস: যে কম্পিউটার ভাইরাসগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠার পরে আর অন্যান্য কোন কোন প্রোগ্রামকে সংক্রমণ করা যাবে তা খুঁজে বের করে এবং সেগুলোকে সংক্রমণ করার পর মূল প্রোগ্রামের কাছে নিয়ন্ত্রণ দিয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়, তাদের অনিবাসী ভাইরাস বলে।
