ইউরোপে প্রথম করোনা সংক্রমণ ‘ডিসেম্বরে’

আপডেট : ০৫ মে ২০২০, ২১:০১

গত বছরের ডিসেম্বরে নিউমোনিয়া নিয়ে ফ্রান্সের

  একটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক ব্যক্তির

    নমুনায় ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে

বিবিসি ও রয়টার্স

গত বছরের ডিসেম্বরে নিউমোনিয়া নিয়ে ফ্রান্সের একটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক ব্যক্তির নমুনায় করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে তার শুকনো কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ নিয়ে ৪৩ বছর বয়সি উত্তর-পূর্ব প্যারিসের বুবিনি এলাকার ঐ বাসিন্দা চিকিত্সা নিতে এসেছিলেন। সেই সময় তার শ্লেষ্মা রেখে দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি ঐ শ্লেষ্মা পরীক্ষা করে সেখানে ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে ফরাসি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ড. ইভ কোহেন।

ইউরোপে করোনার উপস্থিতি যে এত দিনের ধারণার চেয়েও অন্তত এক মাস আগে হয়েছিল, কোহেনের দাবি সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। অ্যাভিসিন অ্যান্ড জঁ-ভের্দিয়ে হাসপাতালের জরুরি ওষুধ বিভাগের প্রধান কোহেন জানান, ঐ রোগী গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তারও চার দিন পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চীন কার্যালয় উহানে নিউমোনিয়াসদৃশ নতুন একটি করোনা ভাইরাসের আবির্ভাবের কথা জানায়।

বুবিনির ঐ বাসিন্দা চিকিত্সা শেষে সুস্থ হয়েই বাড়ি ফিরেছিলেন। ফরাসি গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, সংক্রমিত এলাকায় কখনো না যাওয়ার পরও ভাইরাসটি কীভাবে দেহে এসেছে তা বুঝতে পারছেন না তিনি। ভাইরাস কীভাবে ছড়াচ্ছে তা বোঝার ক্ষেত্রে প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত করাকে গবেষকরা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। কোহেন জানিয়েছেন, বুবিনির ঐ বাসিন্দার পর তার দুই সন্তানও অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। যদিও রোগীর স্ত্রীর কোনো ধরনের উপসর্গ ছিল না। বুবিনির ঐ বাসিন্দার স্ত্রী শার্ল দ্য গল বিমান বন্দরের কাছে একটি সুপার মার্কেটে কাজ করতেন। ঐ নারী ফরাসি গণমাধ্যমকে এমনটাই বলেছেন, ‘আমাদের সুপার মার্কেটে বিমান বন্দর থেকে অনেকে সরাসরিই আসতেন, সঙ্গে তাদের স্যুটকেসও থাকত।’ চীনফেরত কেউ ঐ সুপার মার্কেটে এসে রোগীর স্ত্রীকে সংক্রমিত করে থাকতে পারে বলে অনুমান কোহেনেরও। এ চিকিত্সক বলেছেন, ‘আমাদের ধারণা, তিনি (রোগীর স্ত্রী) আক্রান্ত হয়েছিলেন, যদিও তার উপসর্গ ছিল না।’ শার্ল দ্য গল বিমান বন্দর দিয়েই ফ্রান্সে প্রথম নতুন করোনা ভাইরাস প্রবেশ করেছিল কি না কর্তৃপক্ষকে তা খতিয়ে দেখতেও অনুরোধ করেছেন তিনি।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, ফ্রান্সে ২৪ জানুয়ারি প্রথম তিন জনের দেহে কোভিড-১৯ পাওয়া যায়। এ তিন জনের মধ্যে দুই জনই ছিলেন উহানফেরত; অন্য জন সংক্রমিত হয়েছিলেন আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে। এর কয়েক দিন আগে জার্মানিতে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এক ব্যক্তি শনাক্ত হন। ১৯-২২ জানুয়ারি চীন ভ্রমণ করা এক সহকর্মীর মাধ্যমে ঐ জার্মান নাগরিকের দেহে ভাইরাসটি ছড়িয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। এত দিন ধরে এটিই ছিল ইউরোপে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্তের ঘটনা।