মির্জাপুরে আবাদি জমির টপ সয়েল যাচ্ছে ইটভাটায়

আপডেট : ০৫ মে ২০২০, ২১:২৬

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

মির্জাপুরে আবাদি জমির টপসয়েল যাচ্ছে ইটভাটায়। এদিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সময় কড়াকড়ি ও বিভিন্ন এলাকায় লকডাউনের মধ্যেও নদী এবং পাহাড় কাটা থেমে নেই। বিভিন্ন এলাকায় চলছে মাটি চুরির হিড়িক। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. যুবায়ের হোসেন জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবাদি জমি থেকে টপসয়েল কাটা, নদী থেকে বালু উত্তোলন এবং পাহাড় থেকে লাল মাটি কাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অভিযানকালে কয়েকটি বাংলা ড্রেজার মেশিন পুড়িয়ে ধ্বংস এবং বেশ কয়েক জনকে জরিমানা করা হয়েছে। উপজেলার তরফপুর এলাকার ব্যবসায়ী মো. নাজমুল হোসেন ও বাঁশতৈল এলাকার মাসুদ পারভেজ অভিযোগ করেন, রাতের আঁধারে মাটি চুরির সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেট তরফপুর, পাথরঘাটা, কদমা, টাকিয়া কদমা, খলিয়াজানিসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ভ্যেকু বসিয়ে লাল মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আর প্রতি রাতে শতাধিক ড্রাম ট্রাক দিয়ে মাটি নেওয়ার ফলে এলাকার রাস্তারও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। উপজেলার যোগিরকোপার বাসিন্দা লাল মিয়া ও গুনটিয়া এলাকার সুমন মিয়া অভিযোগ করেন, একটি চক্র বংশাই নদীর ফতেপুর, থলপাগড়া, হিলড়া আদাবাড়ি বাজার, চাকলেশ্বর, গোড়াইল, যুগিরকোপা, লতিফপুর-কোদালিয়া, দেওহাটা, লৌহজং নদীর গুনটিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ভ্যেকু ও বাংলা ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি চক্র। একইভাবে চক্রটি বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমি থেকে টপসয়েল কেটে নেওয়ায় জমির গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কোট বহুরিয়া এলাকার আনোয়ার মিয়া ও ফরিদ হোসেন অভিযোগ করেন, চক্রটির বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। এখন চক্রটি তাদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে জানান তারা। মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল মালেক বলেন, যারা অবৈধভাবে আবাদি জমির টপসয়েল, পাহাড় কেটে লাল মাটি ও নদী থেকে অবৈধভাবে বালুু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন বন্ধে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান তিনি।