বাংলাদেশের ডাক্তার আর পুলিশের কোনো কাজের স্বীকৃতি মেলে না। অথচ এই দুর্যোগে সবচেয়ে ‘পর’ পেশার মানুষগুলোই আপন মানুষের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছে
ঢাকা মেডিক্যাল বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে প্রতি বছর লন্ডন থেকে ডা. ব্রায়ান সমারলেড নামক একজন বিশ্ববিখ্যাত প্লাস্টিক সার্জন আসেন বিনা মূল্যে ঠোঁটকাটা, তালুকাটা রোগীদের চিকিত্সা দিতে। প্রথিতযশা এই সার্জন প্লাস্টিক সার্জারি টেক্সট বুকের এডিটর, তার নামে একটি সুচার মেথডের নামকরণ আছে।
বছরের যে সময়টাতে তিনি আসেন, বার্ন ইউনিটে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। সারা দেশ থেকে রোগী আসে। রোগী বাছাই, প্রস্তুতি, অপারেশন নিয়ে ডাক্তাররা দৌড়ের ওপর থাকেন। রোগীর সেবায় অন্তঃপ্রাণ এক সার্জন। এক যুগেরও অধিক সময় তিনি নিয়মিতভাবে এই কাজে বাংলাদেশে আসেন। ড. ব্রায়ান একদিন রোগী দেখা শেষে আমাদের এক প্লাস্টিক সার্জনকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আচ্ছা আমি এত বছর যাবত্ এত রোগীর অপারেশন করলাম তোমাদের দেশে, কিন্তু কোনো রোগী তো কোনো দিন আমাকে ধন্যবাদ দিল না, কারণটা কী বল তো?’
বাক্রুদ্ধ নবীন প্লাস্টিক সার্জনের নীরব থাকা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।
কী উত্তর দিতে পারতেন তিনি?
কোনো কাজের সমালোচনা করলে সেই কাজের সাফল্যের স্বীকৃতিও দিতে হয়। বরং দ্বিতীয়টাই সহজতর। একটিমাত্র শব্দ ধন্যবাদের মাধ্যমেই অনেক বড়ো উপকারের স্বীকৃতি দেওয়া যায়।
বাংলাদেশের ডাক্তার আর পুলিশের কোনো কাজের স্বীকৃতি মেলে না। অথচ এই দুর্যোগে সবচেয়ে ‘পর’ পেশার মানুষগুলোই আপন মানুষের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছে।
অনেক সমালোচনা, কটূক্তি শুনে পুলিশের কান ঝাঁজালো হয়ে গেছে। সারাক্ষণ মারামারি, হাঙ্গামা, খুন, লাশ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে, মর্গ-হাসপাতাল-আদালতে দৌড়াতে দৌড়াতে পুলিশের মেজাজ থাকে সপ্তমে। তখন একটা ভালো জিনিসকেও আর ভালো লাগে না। বাংলাদেশ পুলিশের মতো এত চাপ নিয়ে পৃথিবীতে আর কোনো পুলিশ কাজ করে কি না, জানা নেই।
ইতিমধ্যে সাত শতাধিক পুলিশ আক্রান্ত, মারা গিয়েছেন পাঁচ জন সদস্য।
এবার তো বিশ্বাস করুন এই পেশার মানুষগুলো নির্ঘুম পাহারায় থেকে আপনার আরামের ঘুম নিশ্চিত করেন। চলুন একটা ধন্যবাদ দিতে কার্পণ্য না করি।
লেখক :সহকারী অধ্যাপক, বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল
