সারাদেশে ১ হাজার ১৫৩ পুলিশ করোনা আক্রান্ত
ইত্তেফাক রিপোর্ট
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ডিএমপির ২১ জন চিকিত্সা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। গতকাল তারা সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৩৯ জন পুলিশ সদস্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যা এক দিনে সর্বোচ্চ। সব মিলিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৫৩ পুলিশ। আর এ পর্যন্ত ৫ পুলিশ সদস্য করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরের সহকারী কমিশনার আশিক হাসান জানান, আক্রান্তরা করোনা সংকট মোকাবিলায় শুরু থেকে বহুমুখী সেবামূলক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। সুস্থ হওয়া পুলিশ সদস্যরা কাজে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। আক্রান্ত পুলিশ সদস্যরা রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে করোনা ভাইরাসের চিকিত্সা গ্রহণ করেছেন।
অপরদিকে, মঙ্গলবার পুলিশ সদর দফতর থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ঢাকাসহ সারাদেশে সর্বশেষ ৫ মে পর্যন্ত ১ হাজার ১৫৩ পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত রবিবার ও সোমবার আক্রান্তের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৮৫৪ জন ও ৯১৪ জন। আক্রান্ত সন্দেহে আইসোলেশনে রয়েছেন ৩১৫ জন এবং আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসায় ১ হাজার ২৫০ জন কর্মকর্তাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৮৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশেরই (ডিএমপি) ৪৪৯ সদস্য। তবে আক্রান্তদের মধ্যে মাঠ পর্যায়ের সদস্যই বেশি। ডিএমপি জানায়, করোনায় মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ছাড়াও তাদের দুই জন অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও এক জন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫ পুলিশ সদস্যের। তাদের মধ্যে চার জন ডিএমপির ও এক জন এসবির। তারা হলেন—ডিএমপির কনস্টেবল জসিম উদ্দিন (৪০) এএসআই আব্দুল খালেক (৩৬) ট্রাফিক বিভাগের কনস্টেবল আশেক মাহমুদ (৪৩) পিওএমের এসআই সুলতানুল আরেফিন এবং পুলিশের বিশেষ শাখার এসআই নাজির উদ্দীন (৫৫)।
পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, মাঠে নিয়োজিত সদস্যরা যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন ও সুরক্ষিত থাকতে পারেন, সেজন্য সচেতনতার পাশাপাশি সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি জানানো হচ্ছে। সিনিয়র অফিসাররাও বিভিন্ন ইউনিটে গিয়ে তাদের সঙ্গে এসব নিয়ে কথা বলছেন। সুরক্ষাসামগ্রী ও পর্যাপ্ত জীবাণুনাশক সরবরাহ ও ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ চিকিত্সা নিশ্চিত করা হচ্ছে। চিকিত্সার পাশাপাশি তাদের মনোবল যেন অটুট থাকে এজন্য ঊর্ধ্বতন অফিসাররা এবং তাদের লাইন চিফরা তাদের হাসপাতালে ভিজিট করছেন। এছাড়া অসুস্থদের পরিবারের সদস্যদের খোঁজ-খবর রাখার জন্য সদর দফতর থেকে স্ব স্ব ইউনিটকে জানানো হয়েছে।
