স্বরূপে ফিরছে রাজধানী, বাড়ছে গাড়ি ও মানুষের চাপ। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ব্যাপকতা বাড়ার কারণে দেওয়া সাধারণ ছুটির ৩৯তম দিনে গতকাল মঙ্গলবার নগরীতে গণপরিবহন ছাড়া সব ধরনের গাড়ি চলাচল করেছে। অনেক সড়কেই যানজট দেখা গেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-আরিচা, ঢাকা-ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়ক থেকে ঢাকার প্রবেশপথে যানজট লক্ষ্য করা গেছে। ট্রাকলরি ছাড়াও লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ির আধিক্য দেখা গেছে। বলা যায়, দূরপাল্লার বাস ছাড়া সব ধরনের যানবাহনই সড়কে চলাচল করছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে এখনো করোনার সংক্রমণের হার নিম্নমুখী হবার লক্ষণ নেই। অথচ মানুষের মধ্যে গাছাড়া ভাব। তার ওপর ছুটি বাড়ানো হলেও সীমিতভাবে খুলছে শপিংমল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তারা বলছেন, জনসমাগমে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা একরকম অসম্ভব। তাতে দীর্ঘ সময়ে ঘরে থাকার সুফল ধুলিস্যাত্ হবার আশঙ্কা রয়েছে। লকডাউন শিথিল করার কৌশল বিজ্ঞানসম্মত না হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন তারা। গতকাল সকাল থেকেই রাজধানীর বনানী, বিজয় সরণি, যাত্রাবাড়ী, আব্দুল্লাহপুর ও গাবতলী এলাকায় সিগন্যালে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অসংখ্য গাড়ি। বিভিন্ন এলাকায় মানুষের ভিড় দেখা গেছে। অনেককেই হেঁটে কর্মস্থলে যেতে দেখা গেছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শপিংমল খোলা রাখার ঘোষণা দেওয়ার পরদিনই রাজধানী স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বেসরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও খুলতে শুরু করেছে। ফলে রাজধানীতে মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে আসছে। মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশকে দায়িত্ব পালন করতে হিমশিম খেতে দেখা গেছে। ঢাকায় প্রচুর গাড়ি প্রবেশ করছে। সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ডগুলোতে সিএনজি নিয়ে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। এই চিত্র দেখা গেছে গাবতলী ও আব্দুল্লাহপুর দিয়ে ঢাকার প্রবেশপথে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্যাট্রল ইন্সপেক্টর (তেজগাঁও) তৈয়ব আলী বলেন, ১০ মে দোকান ও শপিংমল খুলবে। কিন্তু তার আগেই লোকজন সড়কে যেন হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। গণপরিবহন (বাস) না থাকলেও সব ধরনের যানবাহন গতকাল থেকে বেড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জীবন নাকি জীবিকা, এটি এখন প্রশ্ন? রাজধানীর অবস্থা দেখে বলা যায় জনগোষ্ঠীর একটি বড়ো অংশ জীবিকাকেই বেছে নিয়েছে। অনেকে আবার প্রয়োজন ছাড়াই ঘর থেকে বের হয়ে পড়ছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের অবস্থা ইউরোপ কিংবা আমেরিকার মতো নয় বলে আত্মতুষ্টিতে ভোগার কিছু নেই। সামান্যতম শিথিলতাও হতে পারে আত্মঘাতী।
শিমুলিয়া দিয়ে ঢাকামুখী মানুষের ঢল
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি নাসির উদ্দিন জানান, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে ঢাকামুখী যাত্রীদের ঢল নামে। মার্কেট খোলার ঘোষণায় শুধু গার্মেন্টস কর্মীই নয়, বরং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ছিল উপচে পড়া ভিড়। শিমুলিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, যখনই ওপার (কাঁঠালবাড়ি) থেকে কোনো ফেরি শিমুলিয়া ঘাটে আসছে, ঐ ফেরিতে কয়েকটা গাড়ির সঙ্গে হাজার হাজার লোক ঢাকায় যেতে শিমুলিয়া ঘাটে নামছে। তবে শিমুলিয়া ঘাটে এসে কোনোপ্রকার যাত্রীবাহী বাস না পাওয়ায় তারা বরাবরের মতোই নসিমন, করিমন, অটোরিকশা, পিকাপভ্যান, মোটরসাইকেল, ইয়েলো ক্যাব, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে ভেঙ্গে ভেঙ্গে বিকল্প পথে ঢাকায় যাচ্ছে। এতে যাত্রীদের অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।
মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ পরিদর্শক সিরাজুল কবির বলেন, গত দুই দিন যাত্রীর চাপ কিছুটা কম ছিল। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই আবার ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ বেড়েছে। সম্ভবত সরকার মার্কেট খুলে দেবার ঘোষণা দেওয়ায় এখন মানুষজন ঢাকামুখী হতে শুরু করেছে।
বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়া ঘাটের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে এখন দিনের বেলায় তিনটি ও রাতে ছয়টি ফেরি চলাচল করছে। জরুরি গাড়ি পারাপারের জন্য এ সব ফেরি সচল রাখা হয়েছে। অন্যসব নৌযান বন্ধ থাকায় এখন এসব ফেরিতেই হাজারো ঢাকামুখী যাত্রী পার হচ্ছে।
