পিরোজপুরের তুষখালীসংলগ্ন বলেশ্বর ও পোনা নদীতে মত্স্য বিভাগের অবৈধ জাল জব্দের ঘটনায় কোস্ট গার্ড ও পুলিশের সঙ্গে জেলেদের হামলা-পালটা হামলায় নারীসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হাজেরা খাতুনকে উন্নত চিকিত্সার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।
পিরোজপুরের জেলা মত্স্য কর্মকর্তা আব্দুল বারী জানান, গতকাল মঙ্গলবার এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে জেলা জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রমের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ভাণ্ডারিয়ার তেলিখালী ক্যাম্পের কোস্ট গার্ড সদস্য, মঠবাড়িয়া থানার পুলিশ ও মঠবাড়িয়ার মত্স্যকর্মীদের নিয়ে প্রথমে বলেশ্বর নদীতে অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। অভিযানের এক পর্যায়ে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার তেলিখালী ইউনিয়নের পোনা নদীর উত্তরপাড়ে হরিণপালা জেলেপাড়ায় অবৈধ জাল জব্দ করার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী বাধা দেয় এবং অভিযানকারীদের ওপর হামলা চালায়। প্রথমে কোস্ট গার্ড ও পুলিশ লাঠিপেটা করে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। কিন্তু নারী-পুরুষ মিলে দলবদ্ধ হয়ে রামদা, সড়কিসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করলে ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুল ইসলাম চৌধুরীর নির্দেশে কোস্ট গার্ড ২৩ রাউন্ড গুলি চালাতে বাধ্য হয়। এ সময় জেলেপাড়ার নারীসহ ১০ জন আহত হয়েছেন বলে এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি এস এম মাকসুদুর রহমান জানান। জেলেদের হামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকার আবুল কাশেম আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
তেলিখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. সামসুদ্দিন হাওলাদার জানান, জেলেদের বাড়ির সামনে জাল শুকানোর সময় কোস্ট গার্ড জাল জব্দের চেষ্টা করে। এ সময় তাদের সঙ্গে জেলেদের বাগিবতণ্ডা হয়। পরে কোস্ট গার্ড তাদের ওপর গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হাজেরা খাতুনকে উন্নত চিকিত্সার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।
পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সালেহ মুসতানজির বলেন, কোস্ট গার্ডকে ম্যাজিস্ট্রেট বাধ্য হয়ে গুলি চালাতে নির্দেশ দেন। এ সময় চালানো ফাঁকা গুলিতে কেউ আহত হননি। ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি এস এম মাকসুদুর রহমান জানান, তিনি খবর পেয়ে চার ঘণ্টা পরে ঘটনাস্থলে যান। এ ব্যাপারে ভাণ্ডারিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হবে। এ অভিযানকালে কারেন্টজাল, বেহুন্দীজাল, ড্রামসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার মাছ ধরার সরঞ্জাম জব্দ করে পুড়ে ফেলা হয়।
