ব্রহ্মপুত্রে চর জেগে ওঠায় দুর্ভোগে রৌমারী ও রাজিপুরের বাসিন্দারা

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:২৭

কুড়িগ্রাম জেলার পূর্বাঞ্চলে রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন। রৌমারী ও রাজিপুর উপজেলাবাসীর কুড়িগ্রাম জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র ভরসা ইঞ্জিনচালিত শ্যালো নৌকা। উপজেলা দু’টির সঙ্গে নৌ পথে জামালপুরের বাহাদুরাবাদ নৌঘাট, গাইবান্ধার বালাসী নৌঘাট, চিলমারী নৌ বন্দর ঘাট ও যাত্রাপুর নৌঘাট সঙ্গে যাত্রীসহ বাণিজ্যিক পণ্যবাহী নৌকা প্রতিনিয়ত যাতয়াত করে। উপজেলা দুটির ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে বন্দবেড়, চর শৌলমারী, উলিপুর উপজেলার আংশিক সাহেবের আলগা, চিলমারী উপজেলার অষ্টমীরচর ও নয়ারহাট, রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি মোহনগঞ্জ ইউনিয়নসহ জেলা শহরে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য, চিকিত্সা ও পড়াশোনার প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত যোগাযোগের একমাত্র পথ ব্রহ্মপুত্র নদ। কিন্তু ইদানীং নদের বিভিন্ন স্থানে জেগে উঠেছে ছোট-বড় চর। এতে নৌকা চলাচল ব্যাহত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে নদী অঞ্চলের হাজারো মানুষ।

নদীতে পানি ভরা থাকলে যাত্রীবাহী যানবাহন এবং বিভিন্ন পণ্য নিয়ে নৌ-রুটে চলাচল নিরাপদ ও সাশ্রয়ী। এ এলাকা থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে বাঁশের ভেলা বানিয়ে ভাসিয়ে নিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বাঁশের ব্যবসা করেন ব্যবসায়ীরা। দু’টি উপজেলায় প্রধান উত্পাদনশীল ফসল ধান, পাট, সরিষাসহ নানা ধরনের পণ্য নৌকাযোগে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছায় শ্যালো নৌকায়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোদালকাটি, কর্ত্তিমারী, মহনগঞ্জ, রৌমারী, ফলুয়ারচর, বলদমারা, খেরুয়ারচর, ঘুঘুমারী, সাহেবের আলগাসহ বিভিন্ন নৌঘাটের সামনে নদীতে জেগে উঠেছে চর। ভেসে ওঠা দৃশ্যমান বিশাল চর ছাড়াও নদে রয়েছে অসংখ্য ডুবোচর। কোথাও কোথাও ডুবোচরে নৌকা আটকে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের।

রাজিবপুর উপজেলার ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম ও সোনা মিয়া জানান, আমরা গাইবান্ধা সদর থেকে মালামাল আনতে গেলে ডুবোচরে নৌকা আটকা পড়ে যায়। অবাধে নৌকা চলাচল না করায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। রৌমারী উপজেলার ব্যবসায়ী জিন্নাহ, দুলাল, হুদা জানান, ব্যাপকভাবে চর জাগার কারণে ব্রহ্মপুত্র নদে নৌকা চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে।

রৌমারী নদী ভাঙন প্রতিরোধ আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু হানিফ মাস্টার বলেন, পূর্বতীরে (বামতীর) ব্যাপকভাবে ভাঙনের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে ছোট-বড় অসংখ্য চর জেগে উঠেছে। ড্রেজিং করে স্থায়ীভাবে তীর সংরক্ষণ করলে এ সমস্যার সমাধান হবে।

রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী ও রাজিবপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিউল আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদী শাসন ব্যবস্থা না থাকায় ব্রহ্মপুত্র নদ তার গতিপথ হারিয়েছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ও বিভিন্ন বাড়ি-ঘর জমিজমা ও চর ভেঙে ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীনের কারণে নাব্যতা হ্রাস পায়। শুষ্ক মৌসুমে স্বাভাবিক প্রতিকূলতা তৈরি হয়। নাব্য রক্ষার জন্য নদীতে ড্রেজিং পরিকল্পনা করা হয়েছে।