মির্জাপুরে গণহত্যা দিবস আজ

আপডেট : ০৭ মে ২০২০, ১১:২৬

আজ  ৭ মে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অথ্যাচার নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালায় মির্জাপুরের নিরীহ বাঙ্গালির উপর। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে মির্জাপুর হানাদার মুক্ত ও স্বাধীন হলেও সেদিনের ভয়াবহ দৃশ্যের কথা মনে করে আজও  মির্জাপুরবাসী শিউরে উঠে।

স্বাধীনতার ৪৯ বছর পার হলেও সেই সব বীর বাঙ্গালি যাদের জীবনের বিনিময়ে মির্জাপুর দখলমুক্ত ও হানাদার মুক্ত হয়েছিল তাদের স্মরণে নির্মিত হয়নি কোন স্মৃতিসৌধ ও শহীদ মিনার ।

সে দিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শি ভাষা সৈনিক প্রতিভা মুৎসুদ্দি ও অতুল চন্দ্র পোদ্দারসহ অনেকেই জানান, বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে মির্জাপুর গঠিত হয় সংগ্রাম পরিষদ। সাবেক এমপি প্রয়াত ব্যারিস্টার শওকত আলী খান, সাবেক এমপি ও বর্তমান টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম, প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাদ কামাল বীর বিক্রম এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ একাব্বর হোসেন এমপি সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্ব দেন। ৩ এপ্রিল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়ান -সাটিচড়ায় প্রতিরোধ যুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী পরাজিত হবার পর মির্জাপুর সদরে এসে ঘাঁটি করে। রাজাকার আলবদরদের সহযোগিতায় হানাদার বাহিনী মির্জাপুর সদরের আন্ধরা সাহাপাড়া, কুতুববাজার, পুষ্টকামুরী, বাইমহাটি, সরিষাদাইর ও পালপাড়ায় ঢুকে অত্যাচার নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং গণহত্যা চালায়। শতাধিক নারী পুরুষ ও শিশু কিশোরকে হত্যা করে বংশাই ও লৌহজং নদীতে নিক্ষেপ করে।

৭ মে যাদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল তারা হলেন, মির্জাপুর গ্রামের কমলা সাহা, সুভাষ সাহা, মধু সাহা, সুধাম চন্দ্র সাহা, ঊমাচরণ, ধীরেন নাথ সাহা, গদাচরণ সাহা, কেরুশীল, রংলাল সাহা, নিতাই চন্দ্র, আন্ধরা গ্রামের গৌরগোপাল সাহা, গঙ্গাচরণ , পদসাহা, কান্দু সাহা, সরিষাদাইর গ্রামের ভবেন্দ্র সাহা, রঞ্জিত সাহা, নিতাই সাহা, ভোলানাথ, গনেশ সাহা, দুর্গাপুর গ্রামের কানাই সাহা, রাখাল চন্দ্র সাহা, সুরেশ, ভবেশ মন্ডল, বাইমহাটি গ্রামের রঞ্জিত সাহা, নগীনা বাশফৈর, কান্ঠালিয়া গ্রামের জগদীশ বকসী, সাধু মালী, পুষ্টকামুরী গ্রামের ডাঃ রেবুতী মোহন, ফনিন্দ্র নাথ সাহা, মাজম আলী ও জয়নাল আবেদীন। নরঘাতকরা ৭ মে উপ মহাদেশের প্রখ্যাত দানবীর কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা রণদা প্রসাদ সাহা রায় বাহাদুর ও তার একমাত্র পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহা রবিকে রাজাকার আলবদর বাহিনী নারায়ণগঞ্জের বাসা থেকে তাদের ধরে নিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে। হত্যা করা হয় জয়নাল সরকার এবং মাজম আলীকে।

১৯৭১ সালের ৭ই মে গণহত্যার নির্মমতার কথা ভুলতে পারেননি গোটা মির্জাপুর বাসী। সেদিন যারা ঘাতকদের হাতে শহীদ হয়েছিলেন তাদের স্মরণে মির্জাপুরে সরকারিভাবে ৭ই মে কোন অনুষ্ঠান পালিত হয়না। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো পায়নি কোন সাহায্য ও সহযোগিতা। শুধু সেদিনের স্মৃতি মনে করে মির্জাপুর গ্রামবাসি রণদা নাট মন্দিরে কীর্তন এবং আলোচনা সভার আয়োজন করে। এছাড়া কুমুদিনী পরিবার  কুমুদিনী কমপ্লেক্সে প্রার্থনা সভা, কাঙ্গালি ভোজ স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসুচী ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। কিন্ত করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউন চলায় এ বছর এ অনুষ্ঠানও পালিত হচ্ছে না।

দিবসটি সরকারিভাবে পালন, নিহতদের স্মরণে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং অসহায় পরিবারের দিকে সরকার সু নজর দেবেন এমনটাই প্রত্যাশা মির্জাপুরবাসী এবং কুমুদিনী পরিবারের।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক বলেন, মির্জাপুরে গণ হত্যার স্থানগুলো চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, মুক্তিযোদ্ধা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নের্তৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে স্মৃতি ফলক নির্মাণ করা হবে।

ইত্তেফাক/এমআরএম