একসঙ্গে পরিশোধে চাপ দেওয়ার
অভিযোগ মেস মালিকদের বিরুদ্ধে
স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়ায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় ঘোষিত লকডাউনের মধ্যেই বাড়িতে থাকা হাজারও শিক্ষার্থীর ওপর দুই মাসের মেসভাড়া এক সঙ্গে পরিশোধে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বগুড়া শহরের মেস মালিকদের বিরুদ্ধে। মেস মালিকরা ফোন করে ও খুদে বার্তা পাঠিয়ে ভাড়া পরিশোধের জন্য লাগাতার চাপ দিচ্ছেন। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন শহরের প্রায় দেড় হাজার ছাত্রাবাসে থাকা অর্ধ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী। মেস মালিকদের ভাড়া পরিশোধের চাপে অনেকেই দিশেহারা। দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে মেস ভাড়া মওকুফের দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে বন্ধ থাকা এসব মেস থেকে রাতে অনেক কিছু চুরি হয়ে যাচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ : করোনা সংক্রমণ রোধে প্রশাসনের নির্দেশে প্রায় দেড় মাস আগে শিক্ষার্থীরা মেস ছেড়ে বাড়িতে অবস্থান করলেও মালিকেরা মুঠোফোনে এপ্রিল ও মে মাসের ভাড়া ছাড়াও দুই মাসের বিদ্যুত্ ও গ্যাস বিল, বুয়ার বেতনসহ আনুষঙ্গিক বকেয়া শোধে মেসে আসার জন্য চাপ দিচ্ছেন। অনেক মালিক বিকাশের মাধ্যমে দ্রুত ভাড়া পরিশোধ না করলে মেসে রেখে যাওয়া বই-পুস্তক, টেবিল-চেয়ারসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র বাজেয়াপ্তেরও হুমকি দিচ্ছেন। বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের নতুন ভবনের ক্যাম্পাসকে ঘিরে শহরের কামারগাড়ি, জহুরুলনগর, পুরান বগুড়া, সেউজগাড়ি, জামিলনগর, সবুজবাগ, খান্দারসহ আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছে ৬০০ থেকে ৭০০ ছাত্রাবাস। এসব এলাকায় বাসাবাড়ি ভাড়া নিয়ে শিক্ষার্থীরা আবাসিক ছাত্রাবাস ও হোস্টেল গড়ে তুলেছেন। এছাড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় আরো প্রায় হাজার খানেক মেসবাড়ি গড়ে উঠেছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন ১৯ মার্চ শহরের সব মেস ও আবাসিক হোস্টেল বন্ধ ঘোষণা করে মেসে শিক্ষার্থীদের অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ঐ পুলিশ মেসে মেসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসিক ছাত্রাবাস ও হোস্টেল খালি করার নির্দেশ দেয়। শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে মেস ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।
মুঠোফোনে জানতে চাইলে ইকরা ভিলা ছাত্রীনিবাসের মালিক মিজানুর রহমান বলেন, ছাত্রীনিবাস থেকে প্রতি মাসে ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা ভাড়া পান। এ দিয়ে তার সংসারের খরচ চলে। দেড় মাস ধরে সব বন্ধ। সংসার প্রায় অচল। বাধ্য হয়ে তিনি মার্চ ও এপ্রিল মাসের ভাড়া তার মেসে থাকা মেয়েদের বিকাশ করতে বলেছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতির শিকার না হলে এ টাকা চাইতাম না। লকডাউন চলতে থাকলে মে মাস থেকে ভাড়া অর্ধেক মওকুফের কথা বলেন তিনি।
খাদিজা খুশি নামে সরকারি আজিজুল হক কলেজের এক ছাত্রী অভিযোগ করেন, তার মেসের মালিক দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এপ্রিল মাসের ভাড়া শোধ করে মেস ছেড়ে দিতে বলেছেন। লকডাউনের মধ্যে এমন ঘোষণায় তারা বিপাকে পড়েছেন।
করোনা পরিস্থিতিতে মেস ভাড়া মওকুফ চেয়ে ফেসবুক পেজে শিক্ষার্থীরা নানা দাবি তুলে ধরেছেন। তারা বলেছেন, মেসে থাকা অধিকাংশ শিক্ষার্থী গ্রামের দরিদ্র এবং দিনমজুর পরিবারের সন্তান। এ ছাড়া মেসে অবস্থানকারী অনেক শিক্ষার্থী প্রাইভেট, কোচিং, দোকানে খণ্ডকালীন চাকরি করে লেখাপড়াসহ ব্যক্তিগত ব্যয় নির্বাহ করে থাকে। কিন্তু সবকিছু বন্ধ থাকার কারণে এইসব শিক্ষার্থী দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এজন্য তারা জরুরিভিত্তিতে মেস ভাড়া মওকুফ করার দাবি জানান।
সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ মো.শাহজাহান আলী বলেন, কলেজের দুই ক্যাম্পাস ঘিরে বহু ছাত্রাবাস রয়েছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও লকডাউনের কারণে দুঃসহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মেস মালিকদের মানবিক আচরণ করা উচিত। লকডাউনের কারণে যে কয়মাস শিক্ষার্থীরা মেসে থাকবেন না সে কয়মাস অন্তত ভাড়া মওকুফ করে দেওয়া উচিত।
